ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর..
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর..
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ..

 বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ—উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রাখা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলার সাত আসামি

মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বান জানানোসহ বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে ট্রাইব্যুনালে যুক্তি দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন

গত ১২ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান।

অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আইনি লড়াই করেন।

ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মক্কেলরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনের ঘটনায় তার মক্কেলদের নাম আসেনি এবং তারা অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাওয়া হলে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

মামলায় কোনো নারী সাক্ষী না থাকা এবং ভিডিও ফুটেজে আসামিদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও যুক্তিতে উল্লেখ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চার আসামির খালাস দাবি করেন ওই আইনজীবী।

যেভাবে এগিয়েছে বিচার

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রথম দফায় গত ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এরপর ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য পর্ব চূড়ান্তভাবে শেষ হয়।

সবশেষ ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এখন আগামী সপ্তাহে যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ—উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য রাখা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলার সাত আসামি

মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বান জানানোসহ বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে ট্রাইব্যুনালে যুক্তি দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন

গত ১২ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান।

অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আইনি লড়াই করেন।

ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মক্কেলরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনের ঘটনায় তার মক্কেলদের নাম আসেনি এবং তারা অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাওয়া হলে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

মামলায় কোনো নারী সাক্ষী না থাকা এবং ভিডিও ফুটেজে আসামিদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও যুক্তিতে উল্লেখ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চার আসামির খালাস দাবি করেন ওই আইনজীবী।

যেভাবে এগিয়েছে বিচার

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রথম দফায় গত ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এরপর ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য পর্ব চূড়ান্তভাবে শেষ হয়।

সবশেষ ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এখন আগামী সপ্তাহে যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator