দিল্লির 'বাংলাদেশি' বাঙালিদের উপর পুলিশের অভিযান! বিজেপির ভোট রাজনীতির বলি হচ্ছেন প্রবাসীরা? | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লির 'বাংলাদেশি' বাঙালিদের উপর পুলিশের অভিযান! বিজেপির ভোট রাজনীতির বলি হচ্ছেন প্রবাসীরা?

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লির 'বাংলাদেশি' বাঙালিদের উপর পুলিশের অভিযান! বিজেপির ভোট রাজনীতির বলি হচ্ছেন প্রবাসীরা?
দিল্লির 'বাংলাদেশি' বাঙালিদের উপর পুলিশের অভিযান! বিজেপির ভোট রাজনীতির বলি হচ্ছেন প্রবাসীরা?
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লির পশ্চিমাঞ্চলে উত্তমনগরের কাছাকাছি ‘বাঙালি বস্তি’ নামে পরিচিত একটি এলাকায় বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচব
ভারতের রাজধানী দিল্লির পশ্চিমাঞ্চলে উত্তমনগরের কাছাকাছি ‘বাঙালি বস্তি’ নামে পরিচিত একটি এলাকায় বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং আসামের বরপেটা জেলা থেকে আসা এসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে শ্রমজীবী হিসেবে কাজ করলেও সম্প্রতি তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। কারণ, দিল্লি পুলিশ রাতের আঁধারে কিংবা দিনে-দুপুরে তাদের এলাকা ঘেরাও করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বহু মানুষকে, যাদের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে 'অবৈধ বাংলাদেশি' হিসেবে। হঠাৎ কেন এই অভিযান? গত দুই মাস ধরে দিল্লির বিভিন্ন অঞ্চলে সন্দেহভাজন অবৈধ বিদেশি চিহ্নিত করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা মানুষদের জাতীয় পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, রেশন কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের নথিপত্র সঠিক নয় কিংবা কোনো কারণে উপস্থাপন করতে পারছেন না, তাদেরকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উত্তমনগরের কালী বস্তির বাসিন্দা আসলাম শেখ (ছদ্মনাম) জানান, “গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় বিশ জনকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। কিন্তু ফেরত এসেছে মাত্র তিনজন। বাকিরা কোথায় আছে, কেউ জানে না!” ‘ডিপোর্টেশন’ নাকি গোপন পুশব্যাক? দিল্লি পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, যাদের কাগজপত্র বৈধ নয় বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ‘ডিপোর্ট’ করা হচ্ছে। সাধারণত কোনো দেশের নাগরিক যদি অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে, তাহলে দুই দেশের সম্মতির ভিত্তিতে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তবে দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে— তারা কি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এসব লোককে ফেরত পাঠাচ্ছে, নাকি গোপনে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিচ্ছে? একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়েই এসব মানুষকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হচ্ছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো সরকারের দায়িত্ব।” কিন্তু কাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। দিল্লির গভর্নরের নির্দেশে নতুন ধারা গত ১০ ডিসেম্বর দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা নির্দেশ দেন, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় গিয়ে অবৈধ বিদেশিদের খুঁজে বের করতে হবে। এরপরই দিল্লি পুলিশ তাদের ‘বাংলাদেশ সেল’ পুনরায় সক্রিয় করে। এই বিশেষ ইউনিট বাংলাভাষী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে সন্দেহভাজনদের ভাষা বিশ্লেষণ করে এবং তাদের কথাবার্তা শুনে সিদ্ধান্ত নেয় তারা পশ্চিমবঙ্গ বা আসামের বাঙালি নাকি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন! এরপর থেকে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়। শুধু উত্তমনগর নয়, দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ, মহিপালপুর, শাস্ত্রী পার্ক, সীলমপুর, জাহাঙ্গীরপুরীসহ একাধিক এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের ১৫টি ডিস্ট্রিক্টেই চলছে ধরপাকড়। পুলিশের মতে, গত ছয় সপ্তাহে দুই শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেককেই ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। তবে বসন্ত কুঞ্জ, উত্তমনগর বা জাহাঙ্গীরপুরীর বাসিন্দারা বলছেন, “যাদের ধরে নিয়ে গেছে, তারা কেউই ফেরেননি।” শুধু মুসলিমরাই টার্গেট? অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখন পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে, তারা সবাই মুসলিম। দিল্লির বিভিন্ন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় থাকা হিন্দুদের মধ্যে থেকে কাউকে আটক করা হয়েছে বলে কোনো খবর নেই। বিজেপির রাজনীতির কারণে মুসলিমদের উপরই কি এই নিপীড়ন চলছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি আবারও ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছে। মুসলিম অভিবাসীদের টার্গেট করে ভোটের মেরুকরণ ঘটানোই তাদের উদ্দেশ্য বলে অনেকে মনে করছেন। শেষ কথা বর্তমানে দিল্লির বাংলাভাষী শ্রমজীবী মুসলিমদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন কিংবা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন। বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ নিছক ‘অবৈধ অভিবাসী’ তাড়ানোর উদ্দেশ্যে নাকি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে, সেই প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। তবে একথা নিশ্চিত, ভোটের রাজনীতির বলি হচ্ছেন দিল্লির নিরপরাধ বাঙালিরা!
לא נמצאו הערות


News Card Generator