কমিটি গঠন ও এমপিকে অসৌজন্যতার অভিযোগ: ঝালকাঠিতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে বিএনপি নেতার তালা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কমিটি গঠন ও এমপিকে অসৌজন্যতার অভিযোগ: ঝালকাঠিতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে বিএনপি নেতার তালা..

MD  IMRAN MUNSHI avatar   
MD IMRAN MUNSHI
কমিটি গঠন ও এমপিকে অসৌজন্যতার অভিযোগ: ঝালকাঠিতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে বিএনপি নেতার তালা..
কমিটি গঠন ও এমপিকে অসৌজন্যতার অভিযোগ: ঝালকাঠিতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে বিএনপি নেতার তালা..
ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুরের শাহ মাহমুদিয়া ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষের আচরণের জেরে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।..

 


মো ইমরান মুন্সি 
​ঝালকাঠি প্রতিনিধি

 

​ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুরের শাহ মাহমুদিয়া ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষের আচরণের জেরে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ মে (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার অনুসারীরা এই তালা লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সাবেক কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম মল্লিককে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক রিয়াজুল আমিন জামাল সিকদারও এই পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন এবং তার নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিভক্তি দেখা দেয়।

​

​সম্প্রতি কলেজ মাঠে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমীনা আল গাজীর সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে এমপি জীবা আমীনা আল গাজী তাকে খোঁজ করলে অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই গত ১৭ মে দুপুরে গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াজুল আমিন জামাল সিকদারের অনুসারীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

​কলেজের অফিস সহায়ক হায়দার আলী জানান:

"দুপুরের দিকে হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে অধ্যক্ষ স্যারের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়। তবে তারা কারা, তা আমি নিশ্চিতভাবে চিনতে পারিনি।"


​

​ঘটনার সার্বিক বিষয়ে কলেজের সহকারী অধ্যাপক সমরেশ বৈদ্য বলেন, "কমিটিতে যেই আসুক না কেন, আমরা শিক্ষক সমাজ তার সঙ্গেই পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করব। তবে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকা জরুরি।"

​এদিকে ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, "সংসদ সদস্য ইলেন ভুট্টোর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি জেলা প্রশাসক বরাবর সভাপতির নাম সুপারিশ করে পাঠিয়েছি। বিধি মোতাবেক কাজ করার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে আমার অফিস কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।"

 

​নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজুল আমিন জামাল সিকদার বলেন, "অধ্যক্ষ এই ঐতিহ্যবাহী কলেজ পরিচালনার জন্য যোগ্য নন। সংবর্ধনার দিন কোনো প্রকার শিষ্টাচার না মেনে, কাউকে কিছু না বলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে তিনি মাননীয় এমপির সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তার কক্ষে আমি তালা দিইনি, সংক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ দিয়েছে। তবে এমপি মহোদয় ও শাহাদাৎ ভাইয়ের নির্দেশনা ছাড়া এই কক্ষ খোলা যাবে না।"

​কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার এই ঘটনায় বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

Комментариев нет


News Card Generator