বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা ও বিসিএস নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ: ডাকসুর কঠোর হুঁশিয়ারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা ও বিসিএস নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ: ডাকসুর কঠোর হুঁশিয়ারি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা ও বিসিএস নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ: ডাকসুর কঠোর হুঁশিয়ারি..
বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা ও বিসিএস নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ: ডাকসুর কঠোর হুঁশিয়ারি..
ছবি: সংগৃহীত
৪৯তম বিসিএস গেজেট থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া ও রাষ্ট্রীয় নিয়োগে দলীয়করণের প্রতিবাদে ডাকসু নেতৃবৃন্দ সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন।..

গত ১ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। ভিপি সাদিক কায়েমের মতে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং তাদের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ব্যর্থতার কারণে দলটি এখন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। মূলত, রাষ্ট্রীয় নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া এবং ভেরিফিকেশনের নামে বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনাটিই এই বিক্ষোভের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ডাকসু নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিপি সাদিক কায়েম প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছাত্রদল বা যুবদলের সম্পৃক্ততা না থাকলে কেন মেধাবীদের বাদ দেওয়া হবে? তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেও অনেক যোগ্য প্রার্থী গেজেটভুক্ত হতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশার জন্ম দিচ্ছে এবং মেধার অবমূল্যায়ন করে দলীয় আনুগত্যকে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি করার ফলে প্রশাসনিক সক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন। মাঠ পর্যায়ের এই ক্ষোভ কেবল বিসিএস নিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক চাকরির বাজারেও পড়ছে।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মেধার ওপর দলবাজি চাপানোর পরিণতি দেশের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকটসহ লোডশেডিংয়ের মতো জনদুর্ভোগের পেছনে সরকারের অযোগ্যতা ও সীমাহীন ব্যর্থতাই দায়ী। নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের নামে বিরোধী মত দমনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করে সংবিধানের আলোকে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনো এই নিয়োগ বৈষম্যের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও, ছাত্রনেতাদের এই কঠোর অবস্থান সরকারকে নিয়োগ নীতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য এক প্রকার অদৃশ্য চাপ তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পরিশেষে, ডাকসু নেতৃবৃন্দের এই হুঙ্কার ও বিক্ষোভের ঘটনাটি দেশের পরিবহন ও সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, তার বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা। যদি মেধাবীদের বঞ্চিত করার এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে অযোগ্যতা ও অদক্ষতার ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ডাকসুর এই সক্রিয়তা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে এটি স্পষ্ট যে, নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার ও প্রশাসন উভয়কেই জনমতের চাপের মুখে পড়তে হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator