এমপি নেই তবুও এমপি প্রকল্পে ৩৯% ব্যয় বৃদ্ধি: স্থগিতাদেশ অমান্য করে এলজিইডি’র নতুন প্রস্তাব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এমপি নেই তবুও এমপি প্রকল্পে ৩৯% ব্যয় বৃদ্ধি: স্থগিতাদেশ অমান্য করে এলজিইডি’র নতুন প্রস্তাব..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এমপি নেই তবুও এমপি প্রকল্পে ৩৯% ব্যয় বৃদ্ধি: স্থগিতাদেশ অমান্য করে এলজিইডি’র নতুন প্রস্তাব..
এমপি নেই তবুও এমপি প্রকল্পে ৩৯% ব্যয় বৃদ্ধি: স্থগিতাদেশ অমান্য করে এলজিইডি’র নতুন প্রস্তাব..
ছবি: সংগৃহীত
Despite the absence of Members of Parliament, LGED proposed a 39% cost escalation for the 'MP Project,' seeking to increase the budget from Tk 1,082 crore to Tk 1,500 crore, overriding the d..

সংসদ সদস্য না থাকা সত্ত্বেও ‘এমপি প্রকল্প’-এ ৩৯ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে এলজিইডি। প্রকল্পটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও উল্টো এক হাজার ৮২ কোটি থেকে ব্যয় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।

গত আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিজ এলাকায় উন্নয়নকাজের জন্য হাতে নেওয়া ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ বা ‘এমপি প্রকল্প’ এখন দেশের প্রশাসনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশে বর্তমানে কোনো এমপি না থাকা এবং অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই শেষ হতে যাওয়া প্রকল্পে নতুন করে ব্যয় ৩৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, এক হাজার ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছিল ২০২২ সালের জুলাই মাসে। এখন ৪১৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ৩৮.৬৪ শতাংশ বেশি।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেসব খাতের কাজ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে তা দ্রুত শেষ করা হবে এবং যেসব কাজের দরপত্র হয়নি, সেগুলো বাতিল করে দ্রুত প্রকল্পটি সমাপ্ত করা হবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে উল্টো ব্যয় ও সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি চলমান কাজ শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেই ৭০০ কোটিতেই তা শেষ হয়ে যেত। অথচ হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা (প্রস্তাবিত মোট অতিরিক্ত ব্যয়) বাড়ানোর এই উদ্যোগ এখন বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে, প্রকল্পের সাবেক পরিচালক নাজমুল করিম স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সরকার চেয়েছে বলেই ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এলজিইডি বলছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংস্থান অনুযায়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ যথাযথভাবে না পাওয়ায় প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধন হয়নি। এ জন্য প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু ইতোমধ্যেই প্রকল্পের কাজ ৬৪ শতাংশ শেষ হয়েছে।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় (সর্বোচ্চ ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা) এবং সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে মেহেরপুর জেলায় (পাঁচ কোটি টাকা)। বরাদ্দ বণ্টনে এই ব্যাপক তারতম্য নিয়েও কমিশন প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সদস্য ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই প্রকল্পের আওতায় আর কোনো স্কিম অনুমোদন করা হবে না। সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রস্তাব প্রশাসনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator