‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ সংশোধনের দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঐতিহ্যবাহী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ক্লাস বন্ধের আশঙ্কায় উত্তাল হয়েছে পুরো এলাকা।
রাজধানীর ব্যস্ততম সায়েন্সল্যাব মোড়ে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে তীব্র যানজট ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ সংশোধনের দাবিতে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী রাজপথে নামে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করে। এতে এলাকা জুড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সরকার ঘোষিত নতুন আইন অনুযায়ী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের ফলে ঢাকা কলেজের ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষায়, “এই আইন বাস্তবায়িত হলে আমাদের প্রিয় কলেজের শত বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা তা মেনে নিতে পারি না।”
অবরোধে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ বাদ দেওয়া হলে কলেজের মূল কাঠামো ও ছাত্রজীবনের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়বে। তাই তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, আইনটি পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন করা হোক।
এর আগেও গত রোববার (১২ অক্টোবর) একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাবে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার তারা আবারও রাজপথে নামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে নিউমার্কেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যান চলাচলে স্থবিরতা নেমে আসে। বিকল্প পথে যান চললেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড ও মিরপুর রোডজুড়ে।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ ও অফিসগামীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিকে সমর্থন করি, কিন্তু এই অবরোধে পুরো শহর অচল হয়ে যাচ্ছে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বুঝতে পারছে। আইনটির বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়, যার নাম প্রস্তাব করা হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। এই সাতটি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা—এই বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো কার্যকর হলে ঢাকা কলেজের ইন্টারমিডিয়েট বিভাগ বাদ পড়বে, যা দীর্ঘ একশ বছরের ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয় মুছে দেবে। তাই তারা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজধানীর শিক্ষাঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই ইস্যুই—ঐতিহ্য রক্ষা নাকি আধুনিকীকরণ? ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, “উন্নয়ন হোক, কিন্তু ঐতিহ্য যেন না হারায়।”