দেশে স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও বেড়েছে। এক ভরি স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ২ লাখ টাকার ঘর, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে রুপার দামও পৌঁছেছে নতুন রেকর্ডে।
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ৮ অক্টোবর রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৯০৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এই মূল্যবান ধাতুর সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১০১ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত এক ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরি কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ৭ অক্টোবর বাজুস একবার দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৬৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ ছিল। ওই সমন্বয়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ টাকা। এই দাম কার্যকর হয় ৮ অক্টোবর থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল ও ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
এদিকে, স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩২৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৮১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭৪৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭১ টাকায়, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৬ টাকায়।
চলতি বছর রুপার দাম ৬ষ্ঠ বারের মতো সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ বার দাম বেড়েছে এবং ১ বার কমেছে। গত বছর এই ধাতুর দাম পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র ৩ বার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং ডলার-টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। আমদানিনির্ভর স্বর্ণের বাজারে ডলারের দাম যত বাড়ছে, দেশীয় স্বর্ণের দামও ততই উর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎসব মৌসুম ও বিয়ের সময় সামনে থাকায় স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়বে, যা দামের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে, নিকট ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও একবার নতুন রেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।