পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ফতুল্লা এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে দুই বছরের এক শিশু, র্যাবের গাড়িচালক ও এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক বন্ধ থাকে, ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী র্যাব-৮ এর একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে চলছিল। একই সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিল কুয়াকাটা-বরিশাল রুটের ধানসিঁড়ি ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। ফতুল্লা এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় গাড়িই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই র্যাব সদস্যের দুই বছরের কন্যা সন্তান ও গাড়িচালক আলিম (৪২) নিহত হন। নিহত অপর নারী যাত্রীর নাম আফরোজা (৩৫)।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক বেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, “র্যাবের গাড়িতে থাকা ১৩ জনকে আমরা দ্রুত উদ্ধার করি। ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের বরিশাল সিএমএইচ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গুরুতর আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জনের মাথা ও বুকে গভীর আঘাত রয়েছে।”
দুর্ঘটনার পর র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক পরিষ্কার ও উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কটিতে অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল ও থানায় ভিড় করেন। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও শোক প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—দেশের মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিং নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে।