সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
Tarique Rahman vows to ensure media freedom by abolishing repressive laws, promising no abductions or repression of journalists as in the past.

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যে সব কালো আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকার পথে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলো বাতিল করে একটি নতুন যুগের সূচনা করা হবে। শুধু তাই নয়, বিএনপির অতীত সরকারের সময় যেমন সাংবাদিকদের গুম, নির্যাতন বা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়নি, ভবিষ্যতেও তা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কালো আইন যা যা আছে, আমরা সবাই মিলে বসে আলোচনা করে সেগুলো আস্তে আস্তে ঠিক করব। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার অবিচল।

তিনি অতীত সরকারের সময়কার উদাহরণ টেনে বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুলে দেখুন। আমি কোনো নাম উল্লেখ করতে চাই না, কিন্তু তখন অনেক খবর প্রকাশিত হয়েছিল যেগুলোর কোনো সত্যতা ছিল না। অনেক অপপ্রচার সংবাদ হিসেবে ছাপানো হয়েছিল। অথচ সেই সময়ও আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করিনি।

স্বৈরাচারী সময়ের মতো বিএনপির শাসনামলে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়নি, গুম-খুন করা হয়নি, কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়নি। “আমাদের সময়ে কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার হননি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অন্যায় হবে না,” বলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সীমিত করে এমন আইনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “অবশ্যই আমরা সেসব আইন বাতিলের উদ্যোগ নেব। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সংবাদমাধ্যমও যেন অপপ্রচারকে সংবাদ হিসেবে প্রচার না করে। সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের আয়না। তাদের দায়িত্ব সত্যকে তুলে ধরা এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া। আমরা চাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখুক। এজন্য আমরা সকল বাধা দূর করব।

তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বিএনপি সত্যিই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে দেশের গণমাধ্যমের পরিবেশ আমূল পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় যেসব আইনি বাধা রয়েছে, সেগুলো অপসারণের মাধ্যমে সাংবাদিকতা আরও স্বচ্ছ ও স্বাধীন হয়ে উঠবে।

তারেক রহমানের বক্তব্য কেবল বিএনপির নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন নয়, বরং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়েও একটি দিকনির্দেশনা। স্বাধীন গণমাধ্যম ও অবাধ মতপ্রকাশ নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।

শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিবিদ উভয়ের পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন তারেক রহমান।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator