চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত
World Bank predicts Bangladesh’s GDP growth could reach 4.8% this fiscal year, highlighting the need for timely reforms to maintain inclusive growth.

বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা বেড়ে ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে সময়োপযোগী সংস্কারের প্রয়োজন।

ঢাকা, ৭ অক্টোবর: বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। সংস্থার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী সংস্কার প্রয়োজন। চলতি অর্থ বছরের প্রথমার্ধে কিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক পথে ফিরে এসেছে। বিশেষত, রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে শক্তিশালী গতিবেগ দেখা দিয়েছে।

সংস্থার মতে, মধ্যমেয়াদে দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তবে, তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বাজারভিত্তিক নীতি চালু রাখা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও, আর্থিক ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর রাজস্ব সংগ্রহ ততটা কার্যকর নয়।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনী সংস্কারগুলো শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নয়, বরং সমাজের সব স্তরের মানুষকে সুযোগ সুবিধার মধ্যে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রয়েছে রাজনৈতিক দৃঢ়তা, নীতি নির্ধারণে প্রজ্ঞা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন। এছাড়াও, বৈদেশিক চাপে থাকা ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, এবং স্থানীয় আর্থিক সীমাবদ্ধতা প্রভাবিত করতে পারে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই করতে কর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম উন্নত করা এবং রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এ ধরণের সংস্কার এবং নীতি বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির ধারা ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। তবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কিছুটা পূরণ হচ্ছে, কিন্তু খাদ্য ও জ্বালানিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখনো চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির এই মধ্যমেয়াদী প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে, প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয়, সময়োপযোগী নীতি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি এই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও সুসংহত এবং টেকসই হবে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator