খান মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হোসেন সরকারের বরাবর একাধিক অভিযোগ দায়ের করেও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী বাদী সাংবাদিক আব্দুল মজিদ খান ও তার পরিবার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী প্রথমে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর আবারও ৩০ মে ২০২৫ ও ২ জুন ২০২৫ তারিখে অভিযোগ দাখিল করেন। এরপরে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বোচাগঞ্জ থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আবারও ডাকযোগে অভিযোগ দাখিল করা হয়। কিন্তু এতগুলো অভিযোগ দায়েরের পরও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এবং আদালতে কোন প্রতিবেদনও পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মামলা (নং এমআর-১) সহ একাধিক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও মাত্র কয়েকজনকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া মামলার আরেক আসামি লাইসুর রহমানকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়া হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পালাতক আসামিদের নাম ১/ লিপি আক্তার (৪৫) (স্বামী লাইসুর রহমান) ২/ রাশিদা আক্তার (৩০) (পিতা লাইসুর রহমান) ৩/ নয়ন মিয়া (২৪) (পিতা লাইসুর রহমান) ৪/ দেলোয়ার হোসেন (৩৭) (পিতা মৃত মমিন ওরফে হামিদুল) ঠিকানা পুরাতন গুচ্ছগ্রাম আবাসন, ১ নং ইউপি নাফানগর , বড়সুলতানপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর। বর্তমান সরকারি বাড়ি সহ মালামাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মীরা কাশ্মীরির দখলে আছে পলাতক আসামিরা ঠিকানা বিহীন হওয়ার কারণে বোচাগঞ্জ ৩ নং মুর্শিদাহাট জালগাও আসামি দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ওই এলাকা সূত্রে জানা গেছে। বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ দিনাজপুর কোর্ট বিচার ফাইল নং ১২৯/২৩, সিআর নং ৯০১/২৪, সিআর নং ২৪৩/২৪, সিআর নং ২৫৪/২৪ লাইসুর ও লিপি আক্তার জামিনে মুক্তি পেয়ে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়েছেন বলে জানা যায় ৫ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি ছিল তারা শুধুমাত্র ১ নং আসামি আশা আক্তার দিনাজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। পুনরায় যদি ওই ওয়ারেন্টের তালিকাভুক্ত আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে একবার যদি পালিয়ে যায় তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কেননা ওই আসামিরা এখন বর্তমান ঠিকানা বিহীন। দিনাজপুর বোচাগঞ্জ আমলি আদালতে সিআর নং ১৪৭/২৫, সিআর নং ২৬৬/২৫ বোচাগঞ্জ থানায় ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে এ তদন্তধীন রয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় গ্রুপ দিনাজপুর আদালতের জারিকৃত একাধিক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সিআর মামলা নং ১৫১/২৪ সিআর মামলা নং ১৮৪/২৪ নির্বাহী কোর্ট মামলা নং পি ৩৯৬/২৪ সিআর মামলা নং ৬৯/২৫ (এই মামলার ১ নং আসামি রাসেল ও ২ নং আসামি আলো আরজিনা গ্রেফতার) সিআর মামলা নং ১৪৭/২৫ (এই মামলার ১ নং আসামী রাসেল ও ৮ নং আসামি আলো আরজিনা) কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে বালুয়া ডাঙ্গা হঠাৎ পাড়ার আলমের কন্যা আলো আরজিনা গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে দিনাজপুর কারাগারে রয়েছেন। এই মামলাগুলির ৬ জন ও ১ জন গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ১. রুবেল খান (৩৩), পিতা আব্দুল মজিদ ২. সোহেল খান (৩১), পিতা আব্দুল মজিদ ৩. লাবনী বেগম (২৬), স্বামী সোহেল খান ৪. সুখজান বেগম (৪৫), স্বামী মফিজুল ইসলাম ৫. রাসেল খান (২২), পিতা আব্দুল মজিদ ৬. ইভা বেগম (২৮), স্বামী রুবেল খান ৭. গ্রেফতারকৃত আলো আরজিনা (২৫), পিতা আলম, ঠিকানা: মুর্শিদাহাট মালিপাড়া, ৭ নং ওয়ার্ড, সেতাবগঞ্জ পৌরসভা, থানা বোচাগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর। এই মামলার দায়িত্বে থাকা ২ জন ওয়ারেন্ট অফিসার এএসআই শংকর (বিপি-৮১০১০৯০২৭০), এসআই মাহাবুর (বিপি-৭৫৯৪০৭১৪৩৫) এবং ২ জন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিখন কুমার দাস (বিপি-৯২২১২৩৮৩৪৩), এএসআই আব্দুর রহমান (বিপি-৮৩০২০০২৭২৯) এর বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, থানায় একাধিকবার অভিযোগ দাখিলের পরও ওসি জাহিদ হোসেন সরকার আসামিদের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন। কখনো তাকে ভুলভাল বোঝানো হচ্ছে, আবার কখনো নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।সচেতন মহলসহ স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কেন তাদের ধরতে পারছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল মজিদ খান সেতাবগঞ্জ পৌরসভা ও বোচাগঞ্জ উপজেলা বাসির পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সার্বিক তদন্ত করে নিরপেক্ষভাবে আসামিদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার গভীর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।