প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় প্রবাসী বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার রাতে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীরা। সোমবার দুপুরে তার জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ সফরে ইউনূসের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রবাসী বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এক সমাবেশ করেন। সেখানে তারা ঘোষণা দেন, সোমবার বিমানবন্দরে মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রতিনিধি দলকে জাঁকজমকপূর্ণ স্বাগত জানানো হবে। এ সময় বক্তৃতায় বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের সব ধরনের প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি মোকাবিলা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লুর, দলের চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা আতিকুর রহমান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন। তারা সবাই এক কণ্ঠে দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা যেকোনোভাবেই এই সফরকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগও চুপ বসে নেই। জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, শিকাগো, বস্টন, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, নিউজার্সি ও কানেকটিকাট থেকে শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিউইয়র্কে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, “যেখানে মুহাম্মদ ইউনূস, সেখানেই প্রতিরোধ।” তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিনিধি দল জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সামাদ আজাদ, দক্ষিণাঞ্চলীয় শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান, সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ইতোমধ্যে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, তার সামনেও প্রতিদিন কালো পতাকা প্রদর্শন, স্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এমনকি শুক্রবার জাতিসংঘে ইউনূসের ভাষণের দিনও বাইরে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি শনিবার টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারক্যুস হোটেলে ইউনূসের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি নিতে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে ইতোমধ্যে অনুমোদনও পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবাসীরা আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সংঘাত অব্যাহত থাকলে এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় ইতোমধ্যে হাতাহাতির ঘটনাটি প্রমাণ করে দিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। আগামীর দিনগুলোতে এই উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা এখন সবার নজরে।