দূর্গাপূজার আগমনী বার্তা শুরু দুয়ারে কড়া নাড়ছে, শুরু হয়েছে সাজ সাজ রব। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিল্পীর শৈল্পিক কারুকার্যে ধীরে ধীরে সাজিয়ে উঠছে দেবী দুর্গা।সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়াতে শরতের আবহে হিন্দুধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে। আর ক’দিন পর মন্ডপ মুখরিত থাকবে ঢাকির ঢাকের শব্দে। তবে যাদের আয়োজনে পূর্ণতা পায় দূর্গাৎসব এর তারাই বঞ্চিত। সেই মৃত শিল্পের কারিগর জানালেন প্রতিমা তৈরিতে মজুরি স্বল্পতার কথা। এদিকে প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা সময়মতো মন্দির কমিটিকে প্রতিমা হস্তান্তরের জন্য একবারেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে আয়োজকরাও কিন্তু বসে নেই তারাও ইতিমধ্যে মন্ডপসজ্জা সেই সাথে চারিদিক আলোক সজ্জায় কাজে লাগিয়েছেন ডেকোরেটর শ্রমিকদের। শ্রমিকরা আলোকসজ্জা সহ পুজা মন্ডপকে দৃষ্টি নন্দন করে সাজিয়ে তোলার মহা পরিকল্পনা হাতে শুরু করেছেন কাজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এবার পুঞ্জিকা মতে গতকাল ২১শে সেপ্টেম্বর রোববার মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। এবছর দশভুজার আগমন ঘটবে গজে(হাতিতে) ফলম-শষ্য পূর্ণ বসুন্ধরা,তবে তিনি দেবী মা দুর্গা গমন করবেন দোলায় (পালকিতে) ফলম-মরক। আর এই বিশেষ ক্ষণের জন্য দিন গুনছেন প্রতিটি দেবী ভক্ত অনুরাগীরা। উপজেলার পুজামন্ডপ ঘুরে দেখে গেলো মৃদু শিল্পের কারিগর এখন রং তুলিতে অলংকরণ করে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর সৌন্দর্য। তাদের হাতের শৈল্পিক ছোয়ায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে এক একটি প্রতিমা। এরপর ষষ্ঠীর দিন তারা নান্দনিক সৌন্দর্যের দেবীকে বুঝে দিবেন কমিটিকে। এদিকে উপজেলার কইল গ্রামের হরিতলা শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবার দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটিরা বলেন,এবারও দূর্গাৎসব পালিত হবে এই মন্দিরে।শারদ উৎসব কে ঘিরে এই মন্দিরে পুজোর ক’দিন উৎসবের আমেজ বিরাজ করবে।এদিকে কইল কালীবাড়ি কর্মকার পাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, কত বছর ধরে এই কালী বাড়ি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমরা কেন আমাদের বাপ দাদারাও বলতে পারেনা। এদিকে মৃদ শিল্পের অনেক কারিগররা জানান,বাপ-দাদার পেশাগত কাজ আমরা করে যাচ্ছি। নিত্যপন্যের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি আমাদের মজুরি। তিনারা আক্ষেপ করে বলেন দিন রাত সমানতালে কাজ করে প্রতিমা তৈরি করছি অবশেষে পুজোতেই আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি ভাগ্যে জোটে না পুজার আনন্দ। দুপচাঁচিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু অসীম কুমার দাস বলেন, এবার এই উপজেলাতে মোট ৪৫ টি পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ইতিমধ্যে সকল পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে । এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপ ও শারদ উৎসবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে প্রতিটি মন্দির।