পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকেই সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মুনিরের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তাকে এবং তার স্ত্রী বুশরা বীবিকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যাতে তারা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) আদিয়ালা কারাগার থেকে এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা বার্তায় ইমরান খান লিখেছেন—
“আমার এবং বুশরা বেগমের ওপর মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। সেনাপ্রধান আসিম মুনির সরাসরি এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই—আমাদের দুর্বল করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।”
৭২ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেট তারকা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী। চলতি বছরে আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার স্ত্রী বুশরা বীবিও কারাগারে যোগ দেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এখন একই কারাগারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।
খান সেনাপ্রধানের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আরও বলেন—
“যতদিন আমরা জীবিত আছি, ইয়াজিদের অন্যায় কিংবা ফেরাউনের অত্যাচারের কাছে মাথা নত করব না। এই নিপীড়ন আমাদের দমাতে পারবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, জেনারেল মুনির সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে দেশে ফ্যাসিবাদী পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে, ভয়-ভীতি আর দমননীতি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে কেবল ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার জন্য।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়েও সেনাপ্রধানকে দায়ী করেন ইমরান খান। তার ভাষায়—
“মুনির প্রথমে আফগানিস্তানকে হুমকি দেন, তারপর বহু প্রজন্ম ধরে পাকিস্তানে বসবাস করা আফগান নাগরিকদের নির্বাসিত করেন। এরপর ড্রোন হামলা চালিয়ে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিমা লবির কাছে নিজেকে মুজাহিদ প্রমাণ করতে চাইছেন, যারা আফগান সরকারকে সমর্থন করে না।”
শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, দেশের অর্থনীতি নিয়েও ইমরান খানের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। তিনি লিখেছেন—
“আজ পাকিস্তান ইতিহাসে সবচেয়ে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি। বিদেশি বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ঋণ গত তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিটি পাকিস্তানি আজ ঋণের বোঝা বইছে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে এ সংকট কখনো কাটবে না।”
এছাড়া, সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি পিটিআইয়ের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারের মহাসমাবেশকে সফল করার আহ্বান জানান। তার দাবি, পাকিস্তানের জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের জন্য দাঁড়ায়, তবে সেনাশাসনের দমনে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কারাগার থেকে প্রকাশিত এই বার্তা পাকিস্তানি রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইমরান খানের অভিযোগের বিষয়ে সেনাপ্রধান বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তুলবে।