যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি বাবা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি বাবা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি বাবা..
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি বাবা..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মোহাম্মদ আবদুর রহিম (৬২) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।..

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে গত রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ আবদুর রহিম নামের ৬২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ওয়ার্নার অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রশিক্ষণের এক পর্যায়ে তরুণী চালক গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি সরাসরি তার বাবাকে আঘাত করে এবং তাকে বেশ কিছুটা পথ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত উপস্থিত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাটি প্রবাসীদের মাঝে যেমন শোকের ছায়া ফেলেছে, তেমনি গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও বড় করে সামনে নিয়ে এসেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা তরুণী ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন এবং তদন্ত কাজে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক দুর্ঘটনা তদন্তকারী দল বিষয়টি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এটি একটি যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণহীনতা নাকি চালকের অনভিজ্ঞতাজনিত ভুল, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধানমন্ডি থেকে সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এই প্রবাসীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। আবদুর রহিমের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে, যা এই শোকের মুহূর্তকে আরও বেশি হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দুর্ঘটনার সময়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং গাড়ির কারিগরি ত্রুটি নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা নেশাগ্রস্ত অবস্থার ইঙ্গিত নেই, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার পূর্ববর্তী প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো কতটা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে জনবহুল বা অনিরাপদ স্থানে প্রশিক্ষণ না দিয়ে প্রশিক্ষিত ইনস্ট্রাক্টর বা অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি অভিভাবক ও নতুন চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি রোধের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই দুর্ঘটনাটি মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে, যেখানে প্রবাসীরা একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি লালন করেন। আবদুর রহিমের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে মানসিকভাবে সামলে নেওয়ার পাশাপাশি আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে কমিউনিটির নেতারা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই অকাল মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং প্রবাস জীবনে গাড়ি চালানোর মতো নিত্যদিনের কাজের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে, তা এই ঘটনাটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। যাতায়াত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন চালকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার বিষয়টি এখন প্রবাসীদের দৈনন্দিন রুটিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator