ব্যাংককে ভয়াবহ বন্যা: জরুরি অবস্থা জারি, অচল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্যাংককে ভয়াবহ বন্যা: জরুরি অবস্থা জারি, অচল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
ব্যাংককে ভয়াবহ বন্যা: জরুরি অবস্থা জারি, অচল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা..
ব্যাংককে ভয়াবহ বন্যা: জরুরি অবস্থা জারি, অচল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা..
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিপাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা।..

গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণ ও ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক কার্যত বন্যার কবলে পড়েছে। শহরটির ৫০টি জেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিনের এই চরম আবহাওয়ার কারণে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রধান সড়কগুলোসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শহরের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খালগুলোর পানির স্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এখন উদ্ধারকাজ ও পানি অপসারণের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ব্যাংককের সাধারণ বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে খাল-সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী সোমকিদ ফুয়েক-গাম জানান, পানির উচ্চতা ইতোমধ্যে তার কোমর পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার ফলে গত দুই দিন ধরে তাকে নিজের দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দাদের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ওপরের তলায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতিচারণ করে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সেই সময়ের ভয়াবহতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং শহরজুড়ে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানোর জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে খালগুলো কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে। গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট স্বীকার করেছেন যে, অতিরিক্ত বৃষ্টির চাপে শহরের বিদ্যমান অবকাঠামো হিমশিম খাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বারবার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পানি নিষ্কাশনের গতি ত্বরান্বিত করতে তারা সব ধরনের কারিগরি সহায়তা কাজে লাগাচ্ছেন। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বন্যা ব্যাংককের পরিবহন খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই যানজটের জন্য পরিচিত এই শহরে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। যদি আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাংককের মতো একটি জনবহুল ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার এই ব্যর্থতা ভবিষ্যতে টেকসই নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনকে কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ তৎপরতায় সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো তৈরির দিকে নজর দিতে হবে, অন্যথায় প্রতি বছরই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে অসহায় হয়ে পড়বে শহরটি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator