পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হলে আর ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না : ফয়জুল করীম.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হলে আর ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না : ফয়জুল করীম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হলে আর ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না : ফয়জুল করীম..
পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হলে আর ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না : ফয়জুল করীম..
ছবি: সংগৃহীত
Syed Muhammad Faizul Karim, Senior Naib-e-Amir of Islami Andolon Bangladesh, declared that under a PR system election, black money, muscle power, vote rigging, and the rise of fascists will end. He ma..

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “বাংলাদেশে বারবার দলীয় স্বার্থে নির্বাচন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে, পেশীশক্তির প্রদর্শনী হয়েছে, ভোট ছিনতাই হয়েছে, দুর্নীতিবাজ-ডাকাত-গুন্ডা-চাঁদাবাজরা ক্ষমতায় গেছে। কিন্তু যদি পিআর (Proportional Representation) সিস্টেমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আর কোনো ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না। কোটি কোটি টাকার নমিনেশন বাণিজ্যের অবসান ঘটবে। জনগণের ভোট আর নষ্ট হবে না, জাতীয় সরকার গঠিত হবে, যেখানে সব মতাদর্শের মানুষ আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেবে।”

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরের শহীদ ডা. আবুল কাসেম ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা কমিটি আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি প্রদান এবং অপরাধী-খুনিদের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা।

ফয়জুল করীম বলেন, “আজকের প্রচলিত রাজনীতির মধ্যে ফেরেশতা ঢুকলেও আজাজিল হয়ে বের হয়। অথচ ইসলামী রাজনীতির মধ্যে আজাজিল ঢুকলে ফেরেশতা হয়ে বের হয়। আবরার ফাহাদকে কারা হত্যা করেছে? দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েটের ছাত্ররা। তারা ভালো ছাত্র ছিল, কিন্তু দলীয় রাজনীতির কারণে খুনি হয়ে গেল। হাজারো ছাত্র অস্ত্রবাজ হয়ে গেছে। বিএনপি-ছাত্রদল, যুবলীগ—সবাই একে অপরকে হত্যা করছে। দলগুলো তাদেরকে খুনি, ডাকাত, বদমায়েশ, ধর্ষক বানিয়ে দিয়েছে। এই রাজনীতি থেকে মুক্তি দরকার।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী রাজনীতি শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের নিরাপত্তার জন্য। “আপনার সন্তান, স্ত্রী, সম্পত্তি, ইজ্জত-আব্রু রক্ষার জন্য ইসলামী দল করতে হবে। এতিম, গরিব, মিসকিন, তাঁতী, মজদুর—সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী আন্দোলন কাজ করছে। ইসলামের গোটা অর্থনীতি গরিবদের জন্য। অথচ প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থনীতি শুধু ধনীদের জন্য।”

ফয়জুল করীম অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন তারা জাতিকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। “জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলে বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় গেছে, কিন্তু দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খালেদা জিয়া, বিএনপি—কেউই ব্যর্থতার বাইরে নয়। আমরা ক্ষমতার জন্য আদর্শ বিক্রি করতে চাই না। আমরা চাই রাসূল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন হোক। একাত্তরের চেতনা, অমুকের চেতনা নয়—আমরা চাই মদিনার চেতনায় দেশ গড়ে উঠুক।

তিনি বলেন, “নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল—সব মার্কা গরিবদের নাম ব্যবহার করে, কিন্তু প্রকৃত প্রার্থী কেউ গরিব নয়। নৌকা চালায় গরিব, ধান কাটে গরিব, লাঙ্গল বইতে পারে গরিব, অথচ ভোটের সময় সেই গরিবরা বাদ পড়ে যায়। কিন্তু হাতপাখা এমন একটি মার্কা, যা সবাই চালাতে পারে, সবাই ব্যবহার করতে পারে, যা শান্তি দেয় গরিব-ধনী উভয়কেই। তাই আগামী নির্বাচনের মার্কা হাতপাখা।

গণসমাবেশ শেষে ফয়জুল করীম জয়পুরহাটের দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। জয়পুরহাট-১ আসনে (সদর ও পাঁচবিবি) মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ এবং জয়পুরহাট-২ আসনে (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) মাওলানা মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান মাহমুদের নাম ঘোষণা করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়পুরহাট জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হক আজাদ। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ডা. মো. ফজলুর রহমান সাঈদ, গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম মাসুদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী ওমর আলী বাবুসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

نظری یافت نشد


News Card Generator