বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনির আবরার হত্যায় শিবিরকে দায়ী করার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটি তাকে অবিলম্বে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর অভিযোগে বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি তার মন্তব্যকে ভিত্তিহীন, অসত্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপির স্বনির্ভর-বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে দাবি করেন, “আবরার ফাহাদকে ছাত্রশিবির হত্যা করেছে।” এই বক্তব্য তাদের মতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা মনে করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। আদালতের রায়েও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অথচ বিএনপি নেত্রী শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো নানা অপরাধ করে আসছে। অথচ নিলুফার চৌধুরী মনি তার মন্তব্যে এসব চরম অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি আসলেই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করছেন?
ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, তাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই সরকার ও ক্ষমতাসীনদের নিপীড়নের শিকার। গত ১৬ বছরে শিবিরের অন্তত ১০১ জন কর্মী নিহত হয়েছেন, ২০ হাজারেরও বেশি মামলায় অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকেই নির্যাতনের ফলে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এমনকি এখনো সাতজন কর্মী গুম রয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, আবরার হত্যার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানো শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা নয়, বরং শহীদের রক্তের সাথে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তারা বলেন, “আমরা নিলুফার চৌধুরী মনির এই বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন—অন্যথায় আমাদের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি দাবি করেন যে, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রশিবির হত্যা করেছে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।