সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কুলাউড়া উপজেলার করেরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হালেমা আক্তার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে গুণী শিক্ষক বাছাই কমিটির আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জানা যায়,গত ১৪ সেপ্টেম্বর আয়োজিত প্রতিযোগিতায় হালেমা আক্তার “গুণী সহকারী শিক্ষক” নির্বাচিত হন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা,শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা, সৃজনশীল উদ্যোগ,বিদ্যালয় পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা এবং সমাজের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক,সব মিলিয়েই তিনি এই সম্মান অর্জন করেছেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় হালেমা আক্তার বলেন,“শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে মনে হচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এই অর্জন আমার একার নয়,আমার শিক্ষার্থীদেরও। তাঁদের হাসি, স্বপ্ন ও অগ্রগতি আমাকে প্রতিদিন নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করে। জেলা পর্যায়ে এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও আরও উৎসাহ দেবে।”
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৯৯ সালে অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি,২০০১ সালে কুলাউড়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০০৪ সালে একই কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৭৯৯ মার্ক পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমদ ও জাতীয় সংসদের স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শিক্ষকতা জীবনে ২০০৬ সালে কর্মধা ইউনিয়নের নলডরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হালেমা আক্তার। পরে ২০০৯ সালে করেরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন, যেখানে এখনো কর্মরত আছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যার জননী।মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বনগাঁও-২ এলাকার মৃত মো. আশাদ আলীর কন্যা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. তৈমুল ইসলামের স্ত্রী।