নেতানিয়াহুর হুমকি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক—কাতারের পর এবার চীনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিল ইসরায়েল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংঘাত বিশ্বকে অচল করে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাত নতুন মোড় নিচ্ছে। কাতারে হামলার পর এবার সরাসরি চীনকে নিশানায় আনলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হুমকি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং এক নতুন বৈশ্বিক সংঘাতের সূচনা ঘটাতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, চীন কূটনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। তার ভাষায়, চীন “আন্তর্জাতিক সংস্থা, অর্থনৈতিক ফোরাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত আক্রমণ চালাচ্ছে।”
নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, ইরান যেমন আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে ইসরায়েলকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, চীনও একইভাবে তথ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এটি কেবল তথ্যযুদ্ধ নয়—বরং পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের মিত্রদের দূরে সরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক চাপে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট। কাতারে হামলার পর চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান শুরু করার আলোচনা এখন ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইসরায়েলি কূটনীতিকদের মতে, চীন তার সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলবিরোধী প্রভাব বিস্তার করছে। এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু চীনকে “নতুন কৌশলগত হুমকি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাবের তুলনায় ইসরায়েল কখনোই সমান অবস্থানে নেই। সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে এর ভয়াবহতা কেবল ইসরায়েল নয়, গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।
যদি সত্যিই ইসরায়েল চীনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। যুদ্ধ বিশ্লেষকরা বলছেন, “চীন-ইসরায়েল সংঘাত নতুন এক বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা ডেকে আনতে পারে।
চীনের সামরিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব ইসরায়েলের চেয়ে বহু গুণ বেশি। সেই বাস্তবতায় সামরিক অভিযান শুরু করলে ইসরায়েল এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়বে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা কী অবস্থান নেবে সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব কূটনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের এই হুমকি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন এক সংকটের সূচনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংঘাত যেখানে এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, সেখানে চীনকে ঘিরে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই সামরিক হুমকি শুধু কূটনীতির ভাষ্য নয়—বরং এর ভেতরে লুকিয়ে আছে নতুন এক বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি। কাতারের পর এবার চীনকে লক্ষ্যবস্তুতে আনা মানে বিশ্বকে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া। এখন আন্তর্জাতিক মহল কেবল অপেক্ষায় আছে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি সত্যিই বিশ্ব আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে।