প্রতিটি ভোটারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি : তারেক রহমানের অঙ্গীকার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রতিটি ভোটারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি : তারেক রহমানের অঙ্গীকার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রতিটি ভোটারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি : তারেক রহমানের অঙ্গীকার..
প্রতিটি ভোটারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি : তারেক রহমানের অঙ্গীকার..
ছবি: সংগৃহীত
BNP’s Acting Chairman Tarique Rahman has vowed to restore voter confidence ahead of the upcoming national elections, emphasizing transparency, accountability, and the active participation of youth in ..

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটারের আস্থা নিশ্চিত করাই দলের প্রধান দায়িত্ব। এজন্য দুর্নীতি দমন, সাংগঠনিক সংস্কার ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি গড়ে তুলছে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারের আস্থা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য বিএনপি ইতিমধ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে পুনর্গঠন করছে এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের অভিযোগে বিএনপি ইতোমধ্যে ৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কেউ পদচ্যুত হয়েছেন, আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। তারেক রহমানের ভাষায়, “শৃঙ্খলা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সেটিই আমাদের শক্তি। নিজেদের দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই বিএনপি প্রমাণ করেছে, সততার প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করব না। ক্ষমতাসীনদের কাছে যে মানদণ্ড দাবি করি, নিজেদেরও সেই একই মানদণ্ডে দাঁড় করাই।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি নতুন করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়—বিশেষত তরুণদের। কারণ তরুণ প্রজন্ম চায় একটি অংশগ্রহণমূলক ও সেবামুখী রাজনীতি, কেবল ক্ষমতার খেলা নয়। বিএনপি সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান আরো জানান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিএনপি ক্রমাগত আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দলের নীতিমালা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণ নেতৃত্ব ও পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই বিএনপির পরিচয় হোক সেবা, ন্যায়বিচার ও দক্ষতার প্রতীক হিসেবে; বিভাজন বা সুবিধাভোগের প্রতীক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ এখন ভিন্ন ধরনের, তাই পদক্ষেপগুলোও হতে হবে নতুন চিন্তাধারার ভিত্তিতে। তবে ইতিহাসের মূল্য অস্বীকার করা যাবে না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে জনগণের আশা জাগিয়েছিলেন, আর বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি এখন তাদের আদর্শ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে নতুন যুগের পথে।

তিনি বলেন, “তরুণরা চায় বাস্তব সুযোগ, ফাঁকা বুলি নয়। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা নয়। আর বিশ্ব চায় বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে। এই প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

সবশেষে দলের নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান আহ্বান জানান—ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার জন্য। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের প্রত্যেকের ওপর আস্থা রাখি, আপনারাও আমার ওপর আস্থা রাখুন। তাহলেই গণতন্ত্রের পথ উজ্জ্বল হবে। আমরা একসাথে প্রমাণ করব, বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।”

তারেক রহমানের এই বক্তব্য শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই সংস্কার প্রচেষ্টা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার আসন্ন নির্বাচনে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator