জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে যান।
হাসপাতালে জামায়াত আমিরকে দেখতে গেলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার এই সংকটময় মুহূর্তে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং আমিরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। দুই নেতা হাসপাতালে ডা. শফিকুর রহমানের বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং জামায়াত আমিরের সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
এর আগেও একই দিনে বিকেলে জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জানানো হয়, হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন দেখা দেয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর জানার পর নোবেল বিজয়ী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ড. ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার জন্য দোয়া করেছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার উত্তম প্রতিদান কামনা করেন।
জানা যায়, এর আগেই ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডা. শফিকুর রহমানের এনজিওগ্রাম করা হয়। সেই পরীক্ষায় চিকিৎসকরা জানান, তার হার্টে তিনটি প্রধান ধমনীতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাইপাস সার্জারি জরুরি হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোয়া চেয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন, যা একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বাইপাস সার্জারির প্রস্তুতি চলছে এবং যে কোনো সময় অপারেশন করা হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, পেশাগতভাবে তিনি একজন চিকিৎসকও ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবায় যুক্ত ছিলেন। তাই তার প্রতি মানুষের এই সহানুভূতি ও ভালোবাসা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে সামাজিক পরিমণ্ডলে।