গণবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফল হ্যাচিং কার্যক্রম | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গণবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফল হ্যাচিং কার্যক্রম

Md Mahmudul Hasan avatar   
Md Mahmudul Hasan
গণবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফল হ্যাচিং কার্যক্রম
গণবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফল হ্যাচিং কার্যক্রম
ছবি: সংগৃহীত
ফিচার

গণবিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফল হ্যাচিং কার্যক্রম

 

জীবন—এ যেন এক বিস্ময়কর জৈবিক কবিতা, যার প্রতিটি স্তবকে মিশে থাকে জ্ঞানের গভীরতা আর আবেগের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন। বইয়ের পাতায় আমরা ডিমকে যতই “প্রজননের একক” হিসেবে চিনে থাকি, ল্যাবের নিস্তব্ধ পরিবেশে যখন সেই ডিমে প্রথম প্রাণের নাড়াচাড়া অনুভূত হয়, তখন তা নিছক একাডেমিক বিষয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা আর দায়িত্বের প্রতীক।

 

এই অনুভব থেকেই শুরু হয়েছিল একটি অনন্য যাত্রা—যা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ইতিহাসে এক গৌরবময় মাইলফলক হয়ে থাকছে। বহুদিন ধরে অনুষদের ল্যাবে ইনকিউবেটর থাকলেও সেটিকে কেন্দ্র করে কোনো সফল হ্যাচিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সেই স্থবিরতাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি সৃষ্টিশীল প্রয়াসে জীবন সঞ্চার করেছেন প্রভাষক ডা. জামিনুর রহমান ও ১৫তম ব্যাচের একদল উদ্যমী শিক্ষার্থী।

 

ল্যাবের এক কোণে চুপচাপ পড়ে থাকা মেশিনটির দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছিল একধরনের কৌতূহল মেশানো নিঃশব্দ আকর্ষণ। কেউ বলত, “এই মেশিনটা দিয়ে কি সত্যিই জীবন তৈরি করা সম্ভব?” কিন্তু উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না, সাহস আর নির্দেশনার অভাবে। সেই সুপ্ত সম্ভাবনায় প্রাণ সঞ্চার করেন প্রভাষক ডা. জামিনুর রহমান। কেবল একজন শিক্ষক নয়, এই প্রকল্পে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষার্থীদের চোখে পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণার কারিগর।

 

তাঁর দিকনির্দেশনায় শুরু হয় একাডেমিক জীবনের সবচেয়ে জীবন্ত অধ্যায়—ইনকিউবেটরের কার্যপদ্ধতি বোঝা, সঠিক ডিম নির্বাচন, তাপমাত্রা-আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ, ক্যান্ডেলিং এবং ফুটে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর হাতে-কলমে অনুশীলনের এক বিশ্লেষণমূলক প্রক্রিয়া।

 

প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য এসে ধরা দেয়। যখন ইনকিউবেটরের ভেতর থেকে প্রথম একটি বাচ্চা ডিম ভেঙে পৃথিবীর আলোয় আসে, শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল বিস্ময়, গর্ব আর এক অনুচ্চারিত শ্রদ্ধা। ২৫টি হ্যাচিং ডিমের মধ্যে সফল হ্যাচিং রেট ছিল ৯১.৩%—যা একাডেমিক প্রয়োগে বিরল এক অর্জন।

 

এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি হয়ে উঠেছে হাতে-কলমে শেখার একটি ল্যাবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে আরও দৃঢ়ভাবে—পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বা গবেষণার যেকোনো খাতে।

 

এই প্রজেক্টের বিশেষ একটি দিক ছিল—১০ দিন বয়সী একটি ভ্রূণ সংরক্ষণ, যা গবেষণায় ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর রিসোর্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর বাকি ডিম থেকে ফুটে ওঠা একটি সুস্থ্য বাচ্চা প্রতীকীভাবে তুলে দেওয়া হয় ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম তুহীনের হাতে—একটি জীবন্ত মাইলফলক, যা বহন করে ছাত্রজীবনের অর্জন, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রাণময় রূপ।

 

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—“জ্ঞান তখনই সার্থক, যখন তা জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে।”

 

 

মোঃ মাহমুদুল হাসান 

শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় 

ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদ,৩য় বর্ষ

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator