শিরোনাম: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ: প্রশাসন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলার সমীকরণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শিরোনাম: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ: প্রশাসন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলার সমীকরণ..

Sampadakiya Anuchchhed avatar   
Sampadakiya Anuchchhed
শিরোনাম: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ: প্রশাসন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলার সমীকরণ..
শিরোনাম: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ: প্রশাসন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলার সমীকরণ..
ছবি: সংগৃহীত
সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর উপদেষ্টা মণ্ডলীর নেতৃত্বে, প্রশাসনিক শুদ্ধি, সুশাসন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টায় নেমেছে। তবে এই..

 

প্রশাসনের দলীয় অবকাঠামো ভাঙার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের চারটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় (বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও আবাসন) আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে, চাকরির জন্য শুধুমাত্র দক্ষতা নয়, দলীয় পরিচয় বা স্থানীয় এমপি’র সুপারিশ প্রধান বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো একটি চেইন অব পার্টিজান লয়ালটি-তে রূপ নিয়েছে, যেখানে একজন জুনিয়র অফিসারও জানেন উপরের কর্তা কার লোক। এই কাঠামো ভেঙে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করা একটি মৌলিক ও তাৎক্ষণিক কর্তব্য হওয়া সত্ত্বেও, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো সে রকম কার্যকর প্রশাসনিক রদবদলের পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ

প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট যেমন তেল, গ্যাস, অবকাঠামো এবং খাদ্য খাতে সক্রিয় তারা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলে। পূর্বতন সরকার তাদের হাতে দিয়েছে নিয়োগের ক্ষমতা, বরাদ্দের জোগান, এবং আইনপ্রয়োগের নির্লিপ্ততা। আজ অন্তর্বর্তী সরকার এসব সিন্ডিকেটের বিপক্ষে দাঁড়াতে গেলে প্রশাসনের ভেতর থেকেই প্রতিরোধ শুরু হয়। ফাইল আটকে রাখা, আদেশ অমান্য করা, এবং রিপোর্ট গোপন রাখার মতো আচরণ এসব সিন্ডিকেট-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিত্যনৈমিত্তিক অস্ত্র।

ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা পদ্ধতি না মনোভাব?

ড. ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত, তবে রাজনীতির থলিতে হাত না রেখে রাজনীতিকে বদলানো যায় না। বর্তমান সরকার এখনো পলিসি স্তরে সত্যিকারের 'ডিপ ক্লিন' শুরু করতে পারেনি। জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় কমিশনারদের পুনর্বিন্যাস ছাড়া 'মাথা কেটে মাথা প্রতিস্থাপন' সম্ভব নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এই সরকার কি মৃদু সুশীল কথাবার্তায়, প্রকৃত দুষ্ট চক্র ভাঙতে পারবে?

বিএনপির ভোটপ্রীতি না ব্যবসা নেশা?

বিএনপি দীর্ঘ ১৬ বছর পর যখন রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে নেমেছে, তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে এটি আদৌ গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যবসার রুটিন সাইকেল। ঈদের পরে আন্দোলনের ঘোষণা, ফাঁকা মাঠে মাইক, মিডিয়ায় চিৎকার কিন্তু ময়দানে শূন্যতা। তারা ভোট চায়, কারণ ভোট মানে ক্ষমতা, ক্ষমতা মানে অর্থ। এই চক্রে কেউ আন্দোলনের নামে অর্থ আদায় করে, কেউ এলাকায় আধিপত্য ফলায়, আবার কেউ মোড়ল সেজে নেতার কানে গিয়ে ফিসফিস করে। বিএনপির আভ্যন্তরীণ চাঁদাবাজি ও দলীয় হানাহানি তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য করে ফেলেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কেন ঠুঁটো জগন্নাথ?

যেসব বাহিনীর ওপর ভর করে রাষ্ট্র টিকে থাকে তারা আজ বিভ্রান্ত, দ্বিধান্বিত ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ এখনো সরাসরি আগের সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল, অন্য অংশ অপেক্ষা করছে ভবিষ্যৎ শাসক কারা হবেন তা বোঝার। ফলে, অন্তর্বর্তী সরকার আদেশ দিলেও কার্যকরতা হয় না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্বের ট্র্যাক-এ ফেরাতে হলে প্রথমেই চাই শীর্ষ নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার কঠোর বার্তা।

রাজনৈতিক বিচারের অবসান প্রতিরোধ না পুনরুৎপাদন?

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিচার যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে শাসনের নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। বর্তমান সরকার আজো জনগণকে দেখাতে পারেনি যে, তার কাছে দলীয় পরিচয় বড় না আইনি জবাবদিহি। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, আগের মন্ত্রীদের বেপরোয়া ভাষা ও আচার অব্যাহত থাকলে মানুষ ভাববে, এটা আরেকটা 'মেকআপড শাসন'।

ইউনুস বনাম ইউনিফর্ম সুশীল বনাম পুরনো চুক্তির সংঘাত:

ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন এমন একটি কার্যকর আমলাতন্ত্র এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা কাঠামো যেটা এখনো পুরনো সিস্টেমের দখলে। ফলে, সরকার মুখে যতই বলুক আমরা বদলে দেব, বাস্তবে সে ক্ষমতা হাতে নেই। এই দ্বৈত বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রশাসনের গোড়ায় হাত দিতে হবে।

জনগণের বিবেক বনাম রাজনৈতিক ব্যবসা

আজ দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষ যখন ভোট চায়, তখন সে চায় জীবন বদলের অধিকার। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ভোট চায় ব্যবসা রক্ষার জন্য। তাই তাদের প্রতিটি ভাষণে, প্রতিটি বক্তৃতায় শুধুই ভোট চাই শব্দটা আছে, কিন্তু নেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেই নীতির আস্থা। এই ওভারপলিটিকাইজড কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে।

করণীয়: এখনই সময়, কাল নয়:

১. প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বসানো

২. দলীয় আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং জরুরি রদবদল

৩. রাজনৈতিক মামলা নিরপেক্ষভাবে পুনর্বিবেচনা

৪. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার

৫. জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণতান্ত্রিক সচেতনতা তৈরি

■ শেষ পর্যায়ে বলতে পারি

এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অভিশপ্ত কাঠামোর ভেতরে দাঁড়িয়ে নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চায়। কিন্তু যদি তারা দলীয় প্রশাসনের ভিত ভেঙে নতুন ভিত্তি স্থাপন না করতে পারে, তাহলে এই প্রচেষ্টা শুধু একটার পরিবর্তে আরেকটা মুখ দেখে চলার পালা হয়ে দাঁড়াবে। আজ দরকার সাহসী সিদ্ধান্ত, নির্ভীক নেতৃত্ব এবং আদর্শিক স্পষ্টতা। বাংলাদেশ শুধু ভোট চায় না, বাংলাদেশ চায় একটা ভবিষ্যৎ যেখানে রাজনীতি হবে না কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা, বরং হবে একটি সম্মিলিত গণচুক্তি।

 

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator