তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান রাজনীতিকে সহিংস পথে ঠেলে দিতে পারে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান রাজনীতিকে সহিংস পথে ঠেলে দিতে পারে..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান রাজনীতিকে সহিংস পথে ঠেলে দিতে পারে..
তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান রাজনীতিকে সহিংস পথে ঠেলে দিতে পারে..
ছবি: সংগৃহীত
Former MP Golam Mawla Roni warns that vulgar slogans against Tarique Rahman could trigger a violent backlash. From knives and machetes to AK-47s — is politics headed for bloodshed?

সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান রাজনীতিকে সহিংস পথে ঠেলে দিতে পারে। ইতিহাসের খুর-রামদা এখন ফিরতে পারে একে-৪৭ এ!

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা ও বিদ্বেষমূলক স্লোগান নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে যে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান সম্প্রতি রাজপথে শোনা যাচ্ছে, তা দেশের রাজনীতিকে সহিংস ও রক্তাক্ত পথে নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

শনিবার বেলা ১১টার কিছু পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে রনি বলেন, ‘যারা “টিনের চালে কাউয়া তারেক রহমান”, “১২৩৪ তারেক রহমানের ...” কিংবা “চাঁদা দেই পল্টনে, চলে যায় লন্ডনে” ইত্যাদি ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন, তারা নিজেদের অজান্তেই রাজনীতিতে ভয়াবহ অস্থিরতা আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরণের স্লোগান বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজপথে যে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করছে, তা যদি পাল্টা স্লোগান আকারে ছাত্রদল বা যুবদল চালু করে, তাহলে রাজনীতি আর স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শুরু হতে পারে সংঘর্ষ ও সহিংসতার নতুন অধ্যায়।’

ফেসবুক পোস্টে রনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খুর, চাপাতি, রামদা, রগ কাটা, বন্দুক, গুলি ও বোমার অধ্যায় এক সময় দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিল। সেই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর কেউ দেখতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘আজ যেভাবে স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে, তা যদি সশস্ত্র পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রূপ নেয়, তাহলে কেবল “ঝগড়া” হবে না— ফিরবে “ঝনঝনানি”। সেই ঝনঝনানি হবে একে-৪৭, স্নাইপার, গ্রেনেডের।’

রনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে লাভবান হবে তারা, যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, ‘এরপর “জঙ্গি রাষ্ট্র” আখ্যা দিয়ে দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর দাবিও উঠতে পারে।’

গোলাম মাওলা রনির এই সতর্কতা কেবল তারেক রহমানকে ঘিরে নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য এক ধরনের “রেড সিগন্যাল” বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, রাজনীতির ভাষা যদি কেবল অপমান, কুরুচি ও বিদ্বেষে পরিণত হয়, তাহলে তা একটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে, যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য হয়তো একটি সংলাপের আহ্বান হিসেবেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে সেটা তখনই সম্ভব, যদি রাজনীতিকরা উসকানি নয়, দায়িত্বশীলতা নিয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যেখানে প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি স্লোগান ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। গোলাম মাওলা রনির সতর্কবার্তা কি সময়মতো শোনা হবে? নাকি রাজনীতি আবারো রক্তপাতের পথে এগিয়ে যাবে— সেটাই এখন জাতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator