কপোতাক্ষ নদে স্থানীয় অর্থায়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কপোতাক্ষ নদে স্থানীয় অর্থায়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
কপোতাক্ষ নদে স্থানীয় অর্থায়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ..
কপোতাক্ষ নদে স্থানীয় অর্থায়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় নিজেদের অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়রা নদীভাঙন থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা করছেন..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের পাশ দিয়ে শাহজাতপুর-মাহমুদকাটি-কপিলমুনি পর্যন্ত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। 

শুক্রবার (১১ জুলাই '২৫) সকালে মাহমুদকাটি খেয়াঘাটে যাওয়া মূল রাস্তাটি নিচু হওয়ায় এলাকাবাসী প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা উঁচু করার কাজ শুরু করেন।

মাদিয়া বিল ও খোল বিল পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় জমির মালিকদের আর্থিক ও শ্রমিক সহযোগিতায় এই বাঁধটিকে টেকসই করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের মতে, এই রাস্তাটি এবং এর পাশের বেড়িবাঁধ রক্ষা করা গেলে গ্রামের প্রধান জীবিকা মাছের ঘের ও ধানক্ষেত বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে বাঁধ নির্মাণে আনুমানিক চার লক্ষ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তফেজ উদ্দীন তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, "যদি সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে এই এলাকার মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পাবে। ইতোমধ্যে দুটি বাজেটের আওতায় দুটি স্থানে সংস্কারকাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।"

খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস.এম. লিয়াকত হোসেন তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, "কপোতাক্ষ নদের ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের অনেক মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও ঘের হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয়দের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।"

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কপোতাক্ষ নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের প্রশংসা করেন।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, "স্থানীয়রা যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই ইতিবাচক। এলজিইডি থেকে যেসব এলাকায় প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এই এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।"

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রাণী সরকার তৃতীয় মাত্রাকে জানান, ইতিমধ্যে তিনি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট সকলকে সাথে নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে একতা ও সহমর্মিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় এলাকাবাসী আশাবাদী যে, তাদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে সফলতা পাবে।

Nema komentara


News Card Generator