সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান..
সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান..
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরা জেলা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে, তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টির ফলে সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহর ও আশপাশের গ্রাম এলাকার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে চলমান এইচএসসি ও অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পরিস্থিতি যেন এক জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। কলেজে প্রবেশ করতেই শিক্ষার্থীদের কাদামাটি ও পঁচা পানির গন্ধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রাস্তা ও কলেজ এলাকা যেন এখন নদী বা প্রাকৃতিক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় ভেজা জামা-কাপড় পরেই ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। শহরের বাইরে অবস্থিত উপজেলা গুলোতেও অবস্থা একই।

পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালীগঞ্জের মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্ স্কুল, বদ্দিপুর প্রাইমারি স্কুল, ভোমরা রাশিদা স্কুলসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভেলা, বাঁশ বা জুতা হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। স্কুল মাঠগুলোতেও পানি জমে আছে।

কালীগঞ্জের মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত বৈদ্য জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের আঙিনায় হাঁটাচলা করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিচ্ছে, আর এর ফলে অভিভাবকরাও হতাশ। তাদের প্রশ্ন, এই দুর্যোগে সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কিভাবে? শিশুরা ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক অভিভাবক।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের গাউসার রেজা উল্লেখ করেন, প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। কলেজের ভিতরেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পুরো ক্যাম্পাস পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। কলেজের শিক্ষার্থী তৈবুর রহমান বলেন, 'আমাদের কলেজের আশেপাশে পুরো এলাকা এখন পানিতে ডুবে গেছে। প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটু পানি ঠেলে কলেজে যেতে হচ্ছে। ড্রেনের পঁচা পানি ও বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে রয়েছে। পায়ে চুলকানির দেখা দিচ্ছে।'

এইচএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, 'আমাদের বৃষ্টির মধ্যে ভিজে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ভেজা কাপড়ে ৩ ঘণ্টা পরীক্ষা হলে থাকতে হচ্ছে।' সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, 'সাতক্ষীরা শহরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি পেরিয়ে ক্লাসে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই।'

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শোয়াইব আহমাদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ঘের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ জানান, 'প্রশাসনের একার পক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয়দের অংশগ্রহণে বাঁধ নির্মাণসহ সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।'

তথ্যমতে, সাতক্ষীরা জেলার সাত উপজেলায় দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ সরকারি প্রাথমিক, ৫ শতাধিক মাধ্যমিক ও ৬০টির বেশি কলেজ রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator