তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বদলে যাবে বাংলাদেশ—এই লক্ষ্যেই চলবে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’। শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, এবার মেয়াদ বাড়ল ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্দেশ্যে দেশের তরুণদের শক্তিকে উজ্জীবিত করতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ চলবে এই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘তারুণ্যের উৎসব’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপদেষ্টা নিজেই। এতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগসহ উৎসব বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত ২৫টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উৎসবের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে আরও বিস্তৃত ও সফল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে তিনি উৎসবকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই লক্ষ্যে সার্কসহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংগঠনকে যুক্ত করার পাশাপাশি একটি ‘গ্লোবাল ইয়ুথ সামিট’ আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘তারুণ্যের উৎসব’। শুরু থেকেই এটি দেশের তরুণ সমাজে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। উদ্যোক্তা মনোভাব, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
প্রথমে এই উৎসবের সমাপ্তির সময় নির্ধারিত ছিল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে পরবর্তীতে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
উৎসবের প্রথম পর্যায়ে আয়োজিত ১৩ হাজার ৭১১টি কর্মসূচিতে অংশ নেয় প্রায় ৭১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৩ জন তরুণ-তরুণী। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭১ জন ছিলেন নারী। নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আয়োজিত হয় ২ হাজার ৯৩১টি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্ট।
এছাড়াও ক্রীড়া পরিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ও জেলা ক্রীড়া অফিসের ব্যবস্থাপনায় ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়, যা নতুন প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যে উদ্বুদ্ধ করছে।
‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি বিশেষ পরিকল্পনা, যার বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আরও ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ঐক্য ও ইতিবাচক চেতনাকে উজ্জীবিত করা, উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণদের গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ের ভালো কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা।