close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

উত্তরায় র‍্যাব পরিচয়ে নগদ এজেন্টের টাকা ছি'ন'তা'ই

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঘটে গেছে এক চাঞ্চল্যকর ছিনতাই কাণ্ড। র‍্যাব পরিচয়ে কালো মাইক্রোবাসে করে আসা দুর্বৃত্তরা নগদ এজেন্টের গাড়ি থামিয়ে তুলে নেয় টাকা ভর্তি ব্যাগসহ প্রতিনিধি দলকে। পরে টাকা রেখে ভুক্তভ..

রাজধানীর উত্তরা যেন এক ভয়ঙ্কর বাস্তব সিনেমার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলো। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের একাধিক প্রতিনিধি। তারা রুটিনমাফিক দিনের কালেকশন ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নামা ৫-৬ জন ব্যক্তি নিজেদের র‍্যাব সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে গতি থামাতে বলে। এরপর তারা কোনো প্রকার ওয়ারেন্ট বা পরিচয়পত্র ছাড়াই প্রতিনিধি দলের সদস্যদের টাকা ভর্তি ব্যাগসহ জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।

উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে পৌঁছে ছিনতাইকারীরা তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। অবাক করা বিষয় হলো—ব্যাগ ভর্তি টাকা রেখে গাড়িটি সেখান থেকেই দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। এসময় কোনো সাধারণ লোকজন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ এগিয়ে আসার সাহস করেনি।

সুনির্দিষ্ট অঙ্ক জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই হওয়া অর্থের পরিমাণ ১ কোটি টাকার বেশি। নগদ-এর কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনের মতোই প্রতিনিধি দল ব্যাংকে টাকা জমা দিতে রওনা হয়েছিল। আর এতেই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত একটি হামলা হতে পারে।

নগদ-এর সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়, এমন একটি বড় অর্থ বহনের ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা হয়। তবে এভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে এমন ঘটনা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ভয়াবহ বার্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি পূর্বপরিকল্পিত অপারেশন। র‍্যাব-এর নাম ব্যবহার করা মানেই এটি সরাসরি জনগণের আস্থার উপর আঘাত।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা শুরু করেছে। পাশাপাশি কালো মাইক্রোবাস শনাক্তে কাজ চলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, নগরের এমন এলাকায় দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটলে ব্যবসায়িক লেনদেন কীভাবে নিরাপদ থাকবে? তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

র‍্যাব-এর পরিচয় ব্যবহার করে দিবালোকে এমন পরিকল্পিত ছিনতাই শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার উপর নয়, বরং জনগণের ওপর বিশ্বাসের উপরও বড় ধরনের আঘাত। নগদের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল যদি এমনভাবে আক্রান্ত হয়, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ী বা নাগরিকরা কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator