রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল রোড, পশ্চিম পদরদিয়া ও মুন্সিবাড়ি রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এলপি গ্যাসের দামে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রম চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভোক্তাদের দাবি, নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা হলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা যোগসাজশে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। নির্ধারিত সরকারি মূল্য উপেক্ষা করে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে ভোক্তাদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন। এক দোকানে দাম বাড়লে আশপাশের সব দোকানেই একই দামে গ্যাস বিক্রি হয়, যা স্পষ্টভাবে সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত দেয়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে দোকানিরা গ্যাস না দেওয়ার হুমকি দেন অথবা ‘সব জায়গাতেই একই দাম’—এমন যুক্তি দেখান।
এক গৃহিণী বলেন,
“রান্নার জন্য গ্যাস ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। বেশি দাম হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হয়। এটা এক ধরনের জিম্মি অবস্থা।”
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান হলেও তা নিয়মিত নয়, ফলে সিন্ডিকেটকারীরা আবারও আগের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় উত্তর বাড্ডাবাসী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা চান—
- এলপি গ্যাসের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের তালিকা যাচাই
- নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
- সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বড় অঙ্কের জরিমানা
- নিয়মিত মনিটরিং ও হটলাইন সক্রিয় করা
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যকর অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি ছাড়া এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে গ্যাসের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



















