ভাগ্য সহায় থাকলে যা হয়। শেষ আটে ২ নম্বর গ্রুপে ৩ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট অর্জন করে নেট রানরেটে পাকিস্তানকে টপকে শেষ চারে জায়গা করা কিউই বাহিনী এখন টুর্নামেন্টের শিরোপার কাছাকাছি!
কোলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গতকাল (৪ ফেব্রুঃ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০-এ আরম্ভ হওয়া এ ম্যাচে টসে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। এবং তারা টুর্নামেন্টে শুরু থেকে টানা ৭ ম্যাচ আনবিটেন থাকা প্রোটিয়া দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়।
দক্ষিন আফ্রিকা তাদের ইনিংসের ১০.২ ওভারেই ৫ উইকেট হারায় ৭৭ রানের মাথায়। তারপর ৬ষ্ঠ উইকেটে অলরাউন্ডার এম. ইয়ানসেন ও টি. স্টাবসের মধ্যে ৭৩ রানের একটি জুটি হয় ৪৭ বলে। ইনিংসের ২০ তম ওভারে পরপর ২ বলে ২ উইকেট হারায় প্রোটিয়া বাহিনী ১৬৬ রানের মাথায়। যেমনটা ঘটেছিল (তাদের) ইনিংসের ২য় ওভারে! এসব কারণেই মূলত তাদের পক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৯/৮-এর বেশি রান তোলা সম্ভব হয়নি। ইয়ানসেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫* (৩০) রান করেন ৫টি ছয় সহ। এছাড়া ডি. ব্রেভিস করেন ৩৪ (২৭)। কিউইদের পক্ষে সি. ম্যাককোঞ্চি, আর. রবিন্দ্র ও এম. হেনরি ২টি করে উইকেট নেন যথাক্রমে ৯, ২৯ ও ৩৪ রানের বিনিময়ে।
ফাইনালে পৌঁছার লক্ষ্যমাত্রা ১৭০। আর নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ক্রিজে নেমে রীতিমত ঝড় তোলেন দঃ আফ্রিকার বোলারদের উপর! প্রথম ৬ ওভারেই (পাওয়ার প্লে) স্কোরবোর্ডে রান ওঠে বিনা উইকেটে ৮৪! আর দলীয় ১১৭ রানের মাথায় তাদের ইনিংসের একমাত্র উইকেটের পতন ঘটে ৯.১ ওভারে। আউট হন টি. সেইফার্ট ব্যক্তিগত ৫৮ রান করে ৩৩ বলে। আর কিউই দল মাত্র ১২.৫ ওভারে ১৭৩/১ রান করে একেবারে হেসেখেলেই (৯ উইকেটের উইকেটের জয়ের মাধ্যমে) কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত পর্যায়ে (ফাইনালে) পৌঁছে যায়! প্রোটিয়াদের হয়ে কে. রাবাডা একমাত্র উইকেটটি পান ২৮ রান দিয়ে।
এবার আসা যাক ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনায়। নিউজিল্যান্ডের অপর ওপেনার ফিন অ্যালেন এ ম্যাচে তার ব্যক্তিগত ৫০-এ পৌঁছেন ১৯ বলে। যা এবারের টুর্নামেন্টে (ক্রমানুসারে) ৩য় দ্রুততম। তারপর তিনি যেন আরো বিধ্বংসী রুপ ধারণ করেন। এবং তার দ্বিতীয় ৫০ আসে মাত্র ১৪ বলে! অর্থাত, মাত্র "৩৩ বলে" ঠিক ১০০* রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি! এটা এবারের বিশ্বকাপে তো অবশ্যই, একইসাথে গোটা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম। এমনকি ২১ বছরের টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসেও সবচেয়ে ফাস্টেস্ট হান্ড্রেড! তার ইনিংসে ছিল ১০ টি চার এবং ৮টি ছক্কা। এই পারফর্মেন্সের পর ম্যাচসেরা হিসেবে অন্য কাউকে ভাবাই যায় না।
ফিন অ্যালেনের দ্বারা কাল যে রেকর্ডটি ভাঙল, সেটা এতদিন ছিল ডেভিড মিলার-এর দখলে। তিনি ২০১৭ সালে (প্রায় ৯ বছর পূর্বে) বাংলাদেশের সাথে "৩৫ বলে" করেছিলেন সেই শতরান। পরে অবশ্য রোহিত শর্মা শ্রীলংকার সাথে ঐ রেকর্ডের সমকক্ষতা অর্জন করেন।
আজ (৫ ফেব্রুঃ) টুর্নামেন্টের ২য় সেমি ফাইনালে সুপার এইটে 'গ্রুপ ২' থেকে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে আসা ইংল্যান্ড লড়বে 'গ্রুপ ১'-এ ৪ পয়েন্ট পেয়ে (শেষ চারে) ওঠা স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে।
[তথ্যঃ গুগল এবং ক্রিকবাজ।]



















