close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

ঠাকুরগাঁওয়ে বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগে মামলা–পাল্টা মামলা! কারাগারে বর..

আব্দুল্লাহ আল নোমান avatar   
আব্দুল্লাহ আল নোমান
****

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা।।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক ও বিরল অভিযোগ সামনে এসেছে। বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগে বর–কনের দুই পক্ষের মধ্যে মামলা–পাল্টা মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বর রায়হান কবির বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের যুবক রায়হান কবিরের সঙ্গে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার এক তরুণীর বিয়ে হয় ঘটকের মাধ্যমে। উভয় পরিবার সম্মত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর নবদম্পতি বরপক্ষের বাড়িতে ফিরে যান।

বরপক্ষের অভিযোগ, বাসর রাতে কনের অতিরিক্ত সাজসজ্জা ধোয়ার পর রায়হান কবির বুঝতে পারেন—যে পাত্রীকে তাকে আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে থাকা নারী তিনি নন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরদিন কনেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়।

এরপর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলাগুলো বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়হানের পরিবারের দাবি, ঘটক যে পাত্রী দেখিয়েছিলেন তিনি ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন। বিয়ের সময় পারিবারিক চাপ থাকায় বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়া যায়নি। এতে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়েকেই দেখে গেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময় চাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে এবং সমঝোতা ভেঙে যায়।

ঘটক মোতালেব বলেন, তিনি কোনো ভিন্ন পাত্রী দেখাননি। বিয়ের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও জেলা বার কাউন্সিলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, কনে পরিবর্তনের অভিযোগের বিচার আদালতেই হবে। আদালতের রায়েই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

এই ঘটনাকে কেউ প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের ফল বলে মনে করছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ঘটনার প্রকৃত পরিণতি।

Geen reacties gevonden


News Card Generator