বরগুনার তালতলীতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আছিয়া বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে আছিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামের মজিবর জমাদ্দারের মেয়ে আছিয়া বেগমের সঙ্গে প্রায় ৭–৮ বছর আগে পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়া গ্রামের আব্দুর রব পহলানের ছেলে ফরহাদ হোসেন পহলানের (৩০) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ফরহাদ হোসেন পহলান বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে আছিয়া বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। দরিদ্র বাবা মজিবর জমাদ্দার মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে লক্ষাধিক টাকা দিলেও যৌতুকের দাবি বন্ধ হয় নি। নতুন করে টাকা দাবি করে প্রায়ই তাকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে স্বামীর বাড়িতে আছিয়া বেগমের গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, যৌতুকের টাকার জন্য ফরহাদ প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতেও তাদের ঘর থেকে চিৎকার ও মারধরের শব্দ শোনা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিহতের বাবা মজিবর জমাদ্দার বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে অনেক টাকা দিয়েছি। এরপরও তারা আরও টাকা দাবি করত। শুক্রবার রাতে মারধরের একপর্যায়ে আমার মেয়ে মারা যায়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা দেখাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন পহলানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



















