close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

তাহলে কি শেখ হাসিনার নির্দেশে আ.লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে!..

Maishatul Jannah Moume avatar   
Maishatul Jannah Moume
১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগীতে ও ১৮ ফেব্রুয়ারি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা!..

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছিলো৷ নেতা-কর্মীরা সেখানে ঢুকে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে দেন৷ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডও লাগানো হয়৷ কিন্তু রাতে ওই কার্যালয় আবার ভাঙচুর করা হয়৷বেতাগীর পর বরগুনায় আ.লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন তদন্তে পুলিশ 

 

বেতাগীর পর এবার বরগুনা জেলা শহরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হঠাৎ করেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা কার্যালয়ের সামনে পতাকা টানানো দেখতে পান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

 

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে বরগুনা জেলা কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানের দলীয় অফিস অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তারা গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টার দিকে দোকান খুলতে এসে পতাকাটি লক্ষ্য করেন। বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের অফিসে হঠাৎ এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি।'

 

এর আগে বেতাগী উপজেলাতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে, যেখানে দলটির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রতীকী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, 'ছাত্রলীগের কিছু সদস্য গোপনে অফিসে পতাকা উত্তোলন এবং ছবি টাঙিয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই ভিডিও দেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ করছে।'

 

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় ঘোষিত একটি দলের কার্যালয়ে এ ধরনের কার্যক্রম নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ওইদিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ আমাদের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে৷’’ 

শেখ হাসিনা কি আসলেই এরকম কোনো নির্দেশ দিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা হলো আমাদের পোড়া বাড়িতেও যেতে হবে৷’’

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘‘আমার জানা মতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অফিস খোলার ব্যাপারে কোনো অফিসিয়াল নির্দেশ দেননি নেতা-কর্মীদের৷ তিনি বারণও করেননি৷ যা হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছে৷ এটা আগামী দিনে আরো ঘটবে৷ আমরা কিছুদিন পর হয়তো কর্মসূচি দেব৷’’কার্যালয় খোলার কয়েকটি ঘটনা

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড় সদরে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা খুলে ঢুকে পড়েন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা৷ তার সেখানে স্লোগানও দেন৷ সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ খান৷ তবে পরে আবার ওই অফিসে তালা মারা হয়৷ 

এনিয়ে আবু দাউদ খান বলেন, ‘‘আসলে ওটা আওয়ামী লীগের অফিস ছিলো না৷ ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ অফিস ছিলো৷ পরে ওটা স্থানীয় বণিক সমিতির অফিস করা হয়৷ কিন্তু স্থানীয় জামায়াত নেতারা ওটা দখল করে ভাড় দিয়েছিলো৷ নির্বাচনের পরদিন আমাকে জানালে আমি ওটা দখলমুক্ত করে বণিক সমিতির কাছে চাবি হস্তান্তর করি৷’’ 

তিনি বলেন, ‘‘আমি কেন আওয়ামী লীগের অফিস খুলতে সহায়তা করব? আমার নামে তো আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক মামলা হয়েছে৷’’

পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে৷ অফিস খোলার পর সেখানে ছাত্রলীগ- যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করেন৷ পরে অবশ্য ওই কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়৷

একইদিন বিকালে খুলনা মহানগরীর শঙ্খ মার্কেটে আওয়ামী লীগ অফিস খুলে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করেন৷ সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেন৷ এরপর তারা তালা লাগিয়ে চলে যান৷ তারা ছবি তুলে ফেসবুকেও দিয়েছেন৷ 

 

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনাটি ঘটে ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরের পর৷ সেদিন বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ আমাদের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে৷ তার নির্দেশ পেয়েই আমরা বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাই এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার টাঙাই৷’’

তবে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা নেত্রীর সরাসরি কোনো নির্দেশ নয়৷ তবে তিনি আমাদের সক্রিয় হওয়ার জন্য সবসময়ই তাগিদ দেন৷ আমরাতো যেভাবেই হোক দেশে আছি৷ আমরাতো রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চাই৷ একটি নির্বাচন হয়েছে৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে৷ আমরা আরো সক্রিয় হবো৷’’

 

১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সাতটার দিকে ছাত্রলীগের ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢোকেন৷ এরপর ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন৷ পরে কার্যালয়টিতে একটি ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়েন তারা৷

শেখ হাসিনা কি আসলেই নির্দেশ দিয়েছেন?

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা হলো আমাদের পোড়া বাড়িতেও যেতে হবে৷ শুধু আওয়ামী লীগের অফিস নয়, ৩২ নাম্বার ধ্বংস করা হয়েছে৷ আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ নেত্রীর নির্দেশনা হলো তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ের কার্যালয়ে আমাদের যেতে হবে৷ আমাদের নেতা-কর্মীরা তো দেশে আছে৷ এখন যেহেতু ড. ইউনূসের বিদায়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে তাই নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছে৷ কার্যালয় খুলছে৷ আত্মগোপন থেকে আমাদের নেতা-কর্মীরা আরো বেরিয়ে আসবে৷ দেশেও ফিরবে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘গত ১৮ মাস অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছে৷ অফিসে তালা মেরে দেয়া হয়েছে৷ এর অবসান ঘটবে৷’’

আর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের নেতা-কর্মীরা মনে করেন বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তারা গণতান্ত্রিক আচরণ করবে৷ তাই আমাদের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অফিস খুলছে৷ তবে আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা আছে যে পার্টি অফিস খুলতে হবে৷ সেখানে বসতে হবে৷ আমরা তো কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছি না৷ আমরা স্বাভাবিক রাজনীতি করতে চাই৷ আমাদের পার্টি তো নিষিদ্ধ করা হয়নি৷’’

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘‘আমার জানামতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অফিস খোলার ব্যাপারে কোনো অফিসিয়াল নির্দেশ দেননি নেতা-কর্মীদের৷ তিনি বারণও করেননি৷ যা হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছে৷ এটা আগামী দিনে আরো ঘটবে৷ আমরা কিছুদিন পর হয়তো কর্মসূচি দেব৷’’

তিনি বলেন, ‘‘যেভাবেই হোক একটা একতরফা নির্বাচন হয়েছে৷ এনজিওগ্রাম সরকার চলে গেছে৷ মানুষের মধ্যে কনফিডেন্স ফিরে আসতে শুরু করেছে৷ ফলে মানুষ এখন বেরিয়ে আসবে৷ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও প্রকাশ্যে আসবে৷’’

Inga kommentarer hittades


News Card Generator