শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা :
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সুন্দরবনের নোটাবেকী অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে মৎস্য শিকারের অভিযোগে আট জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগের সদস্যরা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর '২৫) রাতে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের এই অভয়ারণ্য এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর '২৫) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
আটককৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব কৈখালী গ্রামের বিশে গাজীর ছেলে আব্দুর সবুর (৩৬), জহুর আলী গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪৫), জয়নাল গাজীর ছেলে বুলবুল গাজী (৩৪), শওকত গাজীর ছেলে মতিউর রহমান (২৪), সাইদুর বরকন্দাসের ছেলে মহিবুল্লাহ বরকন্দাজ, আনিছুর মোল্লার ছেলে আফজাল মোল্লা (২৫), সাহেব খালী গ্রামের আব্বাস আলী মোড়লের ছেলে আনোয়ারুল মোড়ল (৪১) এবং মৃত নওজের গাজীর ছেলে নুরুজ্জামান গাজী (৩৯)।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ তিন মাসের বিরতির পর গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ মানুষের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, আটক জেলেরা তার আগেই অবৈধভাবে প্রবেশ করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত নোটাবেকী অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ শিকারের সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ৩০ কেজি মাছ জব্দ করা হয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে পিওআর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের সংরক্ষণে তারা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। বনজীবী সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করাও জরুরি, যাতে তারা জীবিকার জন্য অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত না হন।
সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত, যা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।