সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেবে ইরান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেবে ইরান
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেবে ইরান
Iran has welcomed the Saudi-Pakistan defense pact, with a top military adviser suggesting Tehran should also join. This signals a potential new shift in regional security dynamics.

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, তেহরানেরও এই জোটে যোগ দেওয়া উচিত। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এবার ইরানও সেই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রিয়াদ-ইসলামাবাদের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তেহরানেরও এতে যোগ দেওয়া উচিত। সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি গণমাধ্যম তেহরান টাইমস এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সাফাভি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমাদের বিশ্লেষণ হলো—এই চুক্তি ভালো। পাকিস্তান বলেছে চাইলে অন্য দেশও এতে যোগ দিতে পারে। আমি সুপারিশ করছি, ইরানকেও এতে অংশ নেওয়া উচিত।" তিনি আরও মত দেন, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরাক মিলিতভাবে একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা জোট গঠন করতে পারে, যা মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তাকে নতুন মাত্রা দেবে। যদিও তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া রিয়াদ-ইসলামাবাদ এত বড় সিদ্ধান্ত নিত না, তবুও আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ইরানের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। এর শর্ত অনুযায়ী, এক দেশ যদি তৃতীয় পক্ষের আক্রমণের মুখে পড়ে, তবে অপর দেশ সামরিকভাবে তাকে সুরক্ষা দেবে। দুই পক্ষই এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এই চুক্তির একদিন আগে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোকে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ওই সম্মেলনের পটভূমিতে ইসরায়েলের হামাস টার্গেট করে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেন, "আমেরিকার অনুমতি ছাড়া ইসরায়েল দোহায় হামলা চালাতে পারত না। মুসলিম দেশগুলোর উচিত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মতো নিজেদের প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা।" একই সুরে ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মৌসাভি ও সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামিও জানিয়েছেন, তেহরান যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশগ্রহণে প্রস্তুত।

খামেনির উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ইরান যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তা হলো—আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তারা সক্রিয় ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। এখন প্রশ্ন উঠছে, সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরান যদি সত্যিই জোটে যোগ দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে কি না।

No comments found


News Card Generator