close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

সন্ত্রাসী কায়দায় ফৌজদারী অপরাধ করেও অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে..

RAJU HOSSAIN avatar   
RAJU HOSSAIN
মো:আনোয়ার হোসেন নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ। বিটিসিএল-এর শেরেবাংলা নগরস্থ ডিজিএম কার্যালয়ে ঢুকে সহকর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং নগদ অর্থ চুরি করার মত নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো 'বিভাগীয় ব্যবস্থা' গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।

  ‎

  ‎মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ মার্চ বিটিসিএল কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিটিসিএল-এর উপ সহকারী প্রকৌশলী আহামদ ফজলে রাব্বি, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং-এর মো. জামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, জুনিয়র লাইনম্যান আব্দুস সোবহান, ওয়ার্কচার্জড কর্মচারী খায়রুল, গিয়াসসহ আরও বেশ কয়েকজন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। হামলায় লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  ‎​

  ‎ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে অফিসে চাঁদাবাজি করে আসছিল। ৩ লক্ষ টাকা এককালীন এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অফিস চলাকালীন সময়ে সাড়ে ২৪ হাজার টাকা চুরি করে।

  ‎

  ‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম, চাঁদাবাজি, চুরি ও হত্যার হুমকীর অপরাধে গত বছরের ২২ মার্চ ডিএমপি শেরেবাংলা নগর ২৬ নং মামলা হওয়ার পর আসামীরা আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রাপ্ত হয়। পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণাদিসহ আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। 

  ‎

  ‎বিটিসিএল সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও এমন নজিরবিহীন ফৌজদারি অপরাধের পরও তাদের স্বপদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হন, তবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। যদি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলার চার্জশিট হয় তবে কর্তৃপক্ষ সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী অভিযূক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে বাধ্য। ফৌজদারি অপরাধের সমান্তরালে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আলাদা অফিসের ভেতরে মারামারি করা সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী সরাসরি 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে অপসারণ বা বিভাগীয় মামলা হওয়ার কথা থাকলেও এই ঘটনার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।

  ​

  ‎এবিষয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, "অফিসের ভেতর নিরাপদ না থাকলে আমরা কাজ করবো কীভাবে? আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, অথচ অপরাধীরা ক্ষমতা খাটিয়ে হত্যার হুমকী দিয়ে আমাদেরই মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে।" ভুক্তভোগীরা প্রত্যেকে বিটিসিএল এর উর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাই নি। 

 

  এবিষয়ে বিটিসিএল উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহামদ ফজলে রাব্বি জানান, এ ঘটনার পরের দিন থানায় মামলা রুজু করার পর উনিসহ বাকিরা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন পেয়ে নিয়মিতভাবে হাজিরা দিচ্ছেন। জামিনের কোন শর্ত ভঙ্গ করে নাই। তবে থানায় মামলা হওয়া সংক্রান্তে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি।

  ‎

  ‎​এই বিষয়ে বিটিসিএল-এর ডিএমডি রতন কুমার হালদার জানান, পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  ‎​

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator