সাতক্ষীরা বাসীর সাথে সাড়ে ১৪ বছর সৎ মায়ের মত আচরণ করা হয়েছে- ডা. শফিকুর রহমান..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরাবাসির ওপর..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরাবাসির ওপর। সাতক্ষীরা বাসীর সাথে সাড়ে ১৪ বছর সৎ মায়ের মত আচরণ করা হয়েছে। জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় এলে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, জামায়াত যদি সরকার গঠন করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজদের হাত ভেঙে দেয়া হবে, সব সিন্ডিকেট গুড়িয়ে দেয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি '২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতের বিজয় চাইনা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছেন। “অনেকেই বলেছিলেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।


তিনি বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। “তারা ভেবেছিল এই অবস্থা চিরকাল থাকবে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেয়া। “আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মান দেন।


সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ তারিখে আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’


দলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। আামাদের নেতা-কর্মীরা কোনো চাঁদাবাজি করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। “অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি,” বলেন তিনি।


সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।


ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে এবং যারা দেশের জন্য অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।


ভোট প্রসঙ্গে বলেন, হা অর্থ আজাদী না অর্থ গোলামী। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে হা ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন হা ভোট দিলে বাংলাদেশ জিতে যাবে না ভোট দিলে বাংলাদেশ হেরে যাবে বলে মন্তব্য কনে তিনি।


জামায়াত আমীর বলেন, দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খা ক্রমেই বাড়ছে।


এর আগে ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় সফরের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন। “যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যে শিশুরা বাবাকে হারিয়ে কষ্টে আছে তাদের চোখের পানি আমি দেখেছি,” স্মৃতিচারণ করেন তিনি।


তিনি ভারতকে ইঙ্গিত ও আইসিসির সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা প্রতিবেশীদেরকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। তবে কাউকে প্রভূ হিসেবে আসতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ার উচ্চারণ করেন তিনি।


সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামসহ জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।


সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator