বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারসহ পাথরঘাটার তিন জেলে ডাকাতদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। অপহরণের পর তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাথরঘাটা উপজেলার জেলে পল্লীতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মাহবুব হোসেন, আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজু ও একই এলাকার রাজন। তারা কয়েকদিন আগে মাসুম মিয়ার মালিকানাধীন একটি ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলার নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরতে যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে কটকা এলাকায় বেহুন্দি জাল ফেলে মাছ ধরার সময় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ডাকাতরা তাদের ট্রলারসহ অপহরণ করে জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা ট্রলার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় জেলেদের ওপর দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, অপহৃতদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। ডাকাতরা হুমকি দিয়েছে- বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গণমাধ্যমে জানানো হলে জিম্মিদের ক্ষতি করা হবে।
স্থানীয় জেলেরা সাগরকন্যাকে জানান, সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর এলাকায় ডাকাতদের তৎপরতা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিন আগেও একই বাহিনী পাথরঘাটার ফোরকান মাঝি ও সিদ্দিকসহ আট জেলেকে অপহরণ করে পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহৃতদের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।



















