সিরাজগঞ্জকে পুনরায় রেল মানচিত্রে গুরুত্বের সাথে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে শনিবার সকালে। সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের বর্তমান নকশা অনুযায়ী শহরকে রেল বঞ্চিত রাখা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ২০ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এই রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা শহরের রায়পুরকে জংশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে প্রকল্পের নকশায় জরুরি পরিবর্তনের দাবি জানান। বক্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে কড্ডার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বরোড ও রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে স্থানীয় জনগণ, যা বৃহত্তর জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আন্দোলনকারীরা জানান, এক সময় সিরাজগঞ্জ রেলের শহর হিসেবে সমধিক পরিচিত থাকলেও বর্তমানে জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, বাণিজ্যের প্রসারে রেল যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই, অথচ বর্তমান নকশাটি সিরাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশার সাথে সাংঘর্ষিক।
আন্দোলনকারীদের দাবি, কালিয়াহরিপুর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত রেলপথের সংযোগ ঠিক রেখে মাত্র দুই কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে রায়পুরের ভেতর দিয়ে জংশন স্থাপন করলে সিরাজগঞ্জ শহর সরাসরি এই প্রকল্পের সুফল পাবে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেল ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেলিমসহ অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবে জেলার মানুষ এই জনবান্ধব পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাদের মতে, রায়পুর জংশন স্থাপন কেবল একটি অবকাঠামোগত দাবি নয়, বরং এটি সিরাজগঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতাকে চরম অবহেলা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। আন্দোলন কমিটির সভাপতি মাহবুব-এ খোদা টুটুল ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে নকশা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বারবার স্মারকলিপি প্রদান ও আলোচনার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি জনগণের এই যৌক্তিক দাবি আমলে না নেয়, তবে জনরোষ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানববন্ধনে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একযোগে দাবি জানিয়েছেন, উন্নয়নের নামে কোনো বিশেষ অঞ্চলকে অবহেলিত রেখে সিরাজগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করা যাবে না।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের এই বিতর্কিত নকশা পরিবর্তন করা না হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের পরিবহন খাতে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
একদিকে রেলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, অন্যদিকে স্থানীয়দের ন্যায্য দাবির এই সংঘাত নিরসনে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সিরাজগঞ্জবাসীর এই আন্দোলন কেবল একটি জংশন স্থাপনের দাবি নয়, বরং এটি আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসন এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনগুলোতে এই দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীরা কতটা সফল হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।