"মন খারাপ বনাম স্বস্তির নিশ্বাস: বাজেট ২০২৬-২৭ কার মুখে হাসি, কার পকেটে চাপ?"..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
"মন খারাপ বনাম স্বস্তির নিশ্বাস: বাজেট ২০২৬-২৭ কার মুখে হাসি, কার পকেটে চাপ?"..
"মন খারাপ বনাম স্বস্তির নিশ্বাস: বাজেট ২০২৬-২৭ কার মুখে হাসি, কার পকেটে চাপ?"..
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট মধ্যবিত্তের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা-কবচ হলেও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আর্থিক সতর্কবার্তা।..

 - সালাউদ্দিন আকবর , ঢাকা 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

জাতীয় সংসদে ঘোষিত হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। এবারের বাজেটকে অনেকেই বলছেন এক ব্যতিক্রমী ভারসাম্যের বাজেট। একদিকে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে বিলাসী জীবনযাপন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপ। ফলে বাজেটটি একই সঙ্গে যেমন স্বস্তির বার্তা বহন করছে, তেমনি কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য নিয়ে এসেছে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ।

বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এবারের বাজেটে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর করের হার বাড়ানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি স্বস্তির খবর এসেছে দেশের কোটি কোটি পরিবারের রান্নাঘরে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলুসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকার আশা করা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর, তবুও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুখবর। হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহৃত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। হার্টের রিং, বিশেষ লেন্স এবং ডায়ালাইসিস সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের কর কমে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসার চাপে থাকা রোগী ও তাঁদের পরিবার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের জন্যও রয়েছে স্বস্তির বার্তা। শিশুখাদ্য ও ফর্মুলা দুধ আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও করছাড় দেওয়া হয়েছে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং এটিএম কার্ডের ওপর আরোপিত আগাম কর প্রত্যাহার করায় শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ওপর কর কমানো হয়েছে। সোলার প্যানেলসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্যেও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সুবিধা। ফলে পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বাজেটের অন্য পিঠে রয়েছে বাড়তি করের বোঝা। ধূমপায়ীদের জন্য এবারের বাজেট সুখকর নয়। সব ধরনের সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার যুক্তিতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে ধূমপায়ীদের খরচ আরও বেড়ে যাবে।

পরিবেশ দূষণকারী জ্বালানিনির্ভর গাড়ির মালিক ও সম্ভাব্য ক্রেতারাও হতাশ। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এসব গাড়ির বাজারমূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আমদানিকৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও এবার করের আওতায় এসেছে। কফি, মেয়োনিজ, কাজুবাদামসহ নানা ধরনের বিদেশি খাদ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ভোক্তাদের ব্যয় এতে কিছুটা বেড়ে যাবে।

নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্যও রয়েছে বাড়তি ব্যয়ের ইঙ্গিত। রড, আমদানিকৃত টাইলস এবং স্যানিটারি সামগ্রীর ওপর উৎপাদন ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ খরচ বাড়তে পারে। নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একইভাবে স্মার্টওয়াচ, বিদেশি খেলনা এবং অন্যান্য বিলাসী পণ্যের ওপরও কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার মনে করছে, এর মাধ্যমে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পও কিছুটা সুরক্ষা পাবে।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করা এবং বিলাসী ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ভোগব্যয় নিরুৎসাহিত করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতে করছাড় দিয়ে সরকার জনবান্ধব অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল ভোগ্যপণ্য, তামাকজাত দ্রব্য ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের ওপর বাড়তি কর আরোপ করে রাজস্ব আহরণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও দিয়েছে।

তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। কর কমানোর সুবিধা ভোক্তাদের কাছে কতটা পৌঁছায়, বাজারে মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেশীয় শিল্প কতটা লাভবান হয়, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত বলা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট মধ্যবিত্তের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা-কবচ হলেও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আর্থিক সতর্কবার্তা।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator