" এআই সিগনাল হাসি প্যাক" (রম্যরচনা)

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
" এআই সিগনাল হাসি প্যাক"  (রম্যরচনা)
" এআই সিগনাল হাসি প্যাক"  (রম্যরচনা)
- সালাউদ্দিন আকবর ,লেখক

ঢাকা শহরে এখন আর ট্রাফিক সিগন্যাল বলে কিছু নেই, আছে “এআই ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম”। নাম শুনলে মনে হয় নাসার স্যাটেলাইট নামানো হয়েছে রাস্তায়। বাস্তবে যা হয়েছে, তা হলো মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা বসিয়ে এমন এক বুদ্ধিমান সিস্টেম আনা হয়েছে, যে মানুষের চেয়েও বেশি সন্দেহ করে।

এই এআই-এর মূলনীতি খুব পরিষ্কার:

“তুমি দোষ করো আর না-করো, তোমাকে সন্দেহ করা হবে।”

প্রথম দিনেই সিস্টেম এক রিকশাওয়ালাকে তিনটা মামলা দিল।

প্রথম মামলা:
“অতিরিক্ত ধীরগতিতে দেশ পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি।”

দ্বিতীয় মামলা:
“হঠাৎ ব্রেক কষে পেছনের বাতাসে ধাক্কা।”

তৃতীয় মামলা:
“যাত্রীকে অতিরিক্ত চিন্তামগ্ন পরিবহন।”

এরপর থেকে ঢাকার মানুষ রাস্তায় বের হয় নামাজে যাওয়া মানুষের মতো দোয়া পড়ে।

তবে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে প্রেমিক-প্রেমিকারা।

একদিন বিকেলে শাহবাগ মোড়ে একটা অটোসাইকেলে বসে ছিল এক যুগল। ছেলেটা মেয়েটাকে বলছিল,
“তুমি না থাকলে আমি বাঁচব না।”

এআই সঙ্গে সঙ্গে সিগন্যাল লাল করে দিল।

স্ক্রিনে ভেসে উঠল:

“মানসিক অস্থিতিশীলতা শনাক্ত।
সম্ভাব্য নাটকীয় প্রেম।
অটোসাইকেল জব্দ করা হলো।”

দুই মিনিটের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ এসে বলল,
“ভাই, আপনারা প্রেম করছেন?”

ছেলেটা ভয়ে বলল,
“না স্যার, আমরা কাজিন!”

মেয়েটা রেগে বলল,
“কাজিন তোমার খালা!”

এআই সঙ্গে সঙ্গে নতুন রিপোর্ট দিল:
“সম্পর্কে দ্বন্দ্ব শুরু।
সম্ভাব্য ব্রেকআপ জ্যাম।”

এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে প্রেম করার আগে মানুষ কাবিন না, ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিচ্ছে।

সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকগুলোও দিক্বিদিক ছোটাছুটি করছে। এক সাংবাদিক তো তিনদিন ধরে শুধু একটা শিরোনাম খুঁজছে:
“প্রেমিকাকে দেখে ইউ-টার্ন, চালক গ্রেফতার।”

আরেকজন রিপোর্ট লিখেছে:
“রাজধানীতে সন্দেহজনক হাসি, তদন্তে এআই।”

এদিকে বহুদিন পর দেশ বিচিত্রার সম্পাদককের মাথায়ও চিন্তা।
তিনি অফিসে বসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
“মানুষ হাসে না কেন?”

পাশ থেকে সহকারী বলল,
“স্যার, হাসলেই এখন ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা দাঁত গণনা করে।”

সম্পাদক বললেন,
“তাহলে ব্যঙ্গ লিখব কী নিয়ে?”

সহকারী চুপচাপ জানালার বাইরে তাকাল।
ঢাকা শহর তখন জ্যামে থেমে আছে।
একটা বাসের ভেতরে তিনজন ঝগড়া করছে,
চারজন ঘুমাচ্ছে,
দুজন জীবনের অর্থ নিয়ে ভাবছে,
আর একজন লাইভে এসে বলছে,
“বন্ধুরা, আমি এখন বাংলামোটরে আটকে আছি। সম্ভবত এখানেই বুড়ো হব।”

ঠিক তখনই সম্পাদককের মাথায় এক ঐতিহাসিক আইডিয়া এল।

“হাসি বিক্রি করা যায় না?”

পরদিন থেকেই বের হলো নতুন স্টার্টআপ:
“হাসির ঝুড়ি লিমিটেড।”

স্লোগান:
“একটু হাসুন, না হলে জরিমানা।”

শহরের মোড়ে মোড়ে ফেরিওয়ালারা দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে,
“তাজা হাসি লাগবে?
মুচকি হাসি কেজি দরে!
অফিসিয়াল হাসি!
শ্বশুরবাড়ি স্পেশাল হাসি!
প্রাক্তনকে দেখে কষ্ট-চাপা হাসি!”

এক ভদ্রলোক এসে জিজ্ঞেস করলেন,
“ভাই, ডিসকাউন্ট আছে?”

ফেরিওয়ালা বলল,
“স্যার, কান্না দিলে হাসি ফ্রি।”

সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো “এআই সিগন্যাল হাসি প্যাক”।
এটা সিগন্যালের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যবহার করতে হয়।

প্যাকেট খুললেই রেকর্ডেড শব্দ বাজে:
“হা হা হা... জীবন সুন্দর... মামলা আরও সুন্দর...”

শোনা যায়, একদিন এক ট্রাফিক পুলিশ নিজেই ওই হাসি শুনে এত জোরে হেসেছিল যে এআই তাকে শনাক্ত করে রিপোর্ট দিল:

“অতিরিক্ত আনন্দ প্রকাশ।
রাষ্ট্রের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ।”

তারপর থেকে পুলিশও চাপা হাসে।

ঢাকা শহরে এখন সবাই চাপা হাসে।
প্রেমিক চাপা হাসে,
রিকশাওয়ালা চাপা হাসে,
সাংবাদিক চাপা হাসে,
এমনকি এআই-ও মাঝে মাঝে সিগন্যালের বাতি টিমটিম করে যেন হাসে।

শুধু এক লোক এখনো খোলাখুলি হাসে।

সে হলো সেই ফেরিওয়ালা।

কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে মোড়ে মোড়ে হাঁটে আর বলে,
“হাসি নিন হাসি!
একদম খাঁটি হাসি!
কোনো হাইফেন নাই,
দাড়ি নাই,
মামলা নাই!
একবার হাসলে অন্তত পাঁচ মিনিট দেশের অবস্থা ভুলে থাকবেন!”

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন
کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator