পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ১ নং মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর রামপুর এলাকার বিসমিল্লাহ বাজার ব্রিজ থেকে শ্রীমন্ত নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি গত ১৭ বছরেও পাকা হয়নি। দীর্ঘ এই সময়কাল জুড়ে সড়কটি সংস্কার বা নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য একটি পথে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারংবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সড়কটির বেহাল দশা নিরসনে কোনো দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক চরম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি সংস্কারের অভাবে উত্তর রামপুর অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে নাগরিক সুবিধার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সামান্য বৃষ্টিতেই এটি কাদা ও জলাবদ্ধতায় একাকার হয়ে যায়, ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচলের পথও রুদ্ধ হয়ে পড়ে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সড়কটি ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত করেন, কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগী হাসপাতালে নিতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যান নিয়ে এই পথে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়েও স্থানীয় কৃষকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি পরিবহন খরচ এবং পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। বর্ষার সময় কাদার কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়া এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের উদাসীনতা এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের অভাবে মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের এই করুণ দশা দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা অর্থায়নের ঘোষণা না আসায় স্থানীয় পর্যায়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রায়ই ভোটের আগে রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি না থাকায় রাস্তাটি এখন স্থানীয়দের কাছে একটি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়বদ্ধতার অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি পাকা করার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি করছেন, যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা হলে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরবে এবং মানুষের জীবনের মান উন্নত হবে।
পরিশেষে, উত্তর রামপুরের এই সড়কটি সংস্কার না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এলাকাটি মূল জনপদ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি জনপদের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর সেই ব্যবস্থার এমন করুণ দশা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ১৭ বছরের এই দীর্ঘ অবহেলা কেবল একটি সড়কের সমস্যা নয়, এটি স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভাবেরও বহিঃপ্রকাশ। যদি দ্রুত এই এক কিলোমিটার পথ পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তবে জনদুর্ভোগ আরও প্রকট হবে এবং স্থানীয় কৃষি ও শিক্ষা খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। নাগরিক জীবনের এই মৌলিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।