close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং মুসলিম বিশ্বের সংঘাত একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ..

Sampadakiya Anuchchhed avatar   
Sampadakiya Anuchchhed
এই নিবন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর মুসলিম বিশ্বের প্রতি আচরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কারণগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নিবন্ধটি নয়টি মূল প্রশ্ন..

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং মুসলিম বিশ্বের সংঘাত একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ

বখতিয়ার শামীম।

এই নিবন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর মুসলিম বিশ্বের প্রতি আচরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কারণগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নিবন্ধটি নয়টি মূল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যা পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধমুখী নীতি গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে আগ্রাসন সমাজতন্ত্রের সম্ভাবনা এবং ইসলামী মৌলবাদের ভূমিকা নিয়ে। বিশ্লেষণটি বাস্তব ঘটনা এবং তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে যাতে পাঠকরা বিষয়গুলোর গভীরতা অনুভব করতে পারেন। এটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দ্বিমুখী চরিত্র এবং মুসলিম দেশগুলোর চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে যা বিশ্বশান্তির জন্য অপরিহার্য।

 

ভূমিকা

পশ্চিমা দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ফ্রান্স এবং অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিরা বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের নীতিগুলো প্রায়ই মানবাধিকার গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার নামে উপস্থাপিত হয় কিন্তু বাস্তবে এগুলো অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের উপায়। মুসলিম বিশ্ব যা মধ্যপ্রাচ্য উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক সংঘাতপূর্ণ। এই নিবন্ধে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মাধ্যমে এই সম্পর্কের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করা হবে যা ঐতিহাসিক ঘটনা যেমন ইরাক যুদ্ধ আফগানিস্তান আক্রমণ এবং ফিলিস্তিন সংকটের উপর ভিত্তি করে। উদ্দেশ্য হলো একটি সুষম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করা যাতে পাঠকরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এক: পশ্চিমাদের নিকট মুসলিমদের জীবনের মূল্য নেই কেন

পশ্চিমা দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই মুসলিম দেশগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত করে তোলেন যাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর পেছনে ঐতিহাসিক উপনিবেশবাদের ছায়া রয়েছে যেখানে ইউরোপীয়রা আফ্রিকা এবং এশিয়ার মানুষদেরকে নিম্নমানের হিসেবে দেখত। উদাহরণস্বরূপ ইরাক যুদ্ধে লক্ষাধিক নাগরিক মারা গেছে কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া এগুলোকে কোল্যাটারাল ড্যামেজ বলে উড়িয়ে দেয়। এটি একটি মানসিকতা যা ওরিয়েন্টালিজম নামে পরিচিত যেখানে পূর্বের মানুষদেরকে অসভ্য হিসেবে চিত্রিত করা হয়। অর্থনৈতিক স্বার্থ যেমন তেলের নিয়ন্ত্রণ এই মানসিকতাকে আরও শক্তিশালী করে। তবে এটি সর্বজনীন নয় কারণ অনেক পশ্চিমা নাগরিক এবং বুদ্ধিজীবী এই নীতির বিরোধিতা করেন যা দেখা যায় ভিয়েনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে।

 দুই: শুধু সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী দেশ হওয়ার জন্য যুদ্ধে জেতা যায় না এই থিওরিটি কতটা সত্য

যুদ্ধে বিজয়ের জন্য সামরিক শক্তি অপরিহার্য কিন্তু একমাত্র উপাদান নয়। ইতিহাসে দেখা যায় যে ভিয়েনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকা সত্ত্বেও তারা পরাজিত হয়েছে কারণ স্থানীয় জনগণের সমর্থন ছিল না। একইভাবে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে ন্যাটো বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে কারণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সামাজিক ঐক্য এবং রাজনৈতিক বৈধতা ছিল না। ক্লাউজেভিটজের যুদ্ধ তত্ত্ব অনুসারে যুদ্ধ রাজনীতির ধারাবাহিকতা তাই শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়। আধুনিক যুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা অর্থনৈতিক স্যাঙ্কশন এবং প্রচারণা যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ। এই থিওরিটি সত্য কারণ ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাতে দেখা যায় যে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জিত হয় না।

 তিন: পৃথিবীতে পশ্চিমা দেশগুলো শুধু মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে কেন

পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধগুলো শুধু মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয় কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ বেশি। এর কারণ তেল গ্যাস এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ যা মুসলিম দেশগুলোতে প্রচুর। উদাহরণস্বরূপ পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং লিবিয়া হস্তক্ষেপ। তবে তারা অন্যান্য অঞ্চলেও যুদ্ধ করেছে যেমন কোরিয়া ভিয়েনাম এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সঙ্গে পরোক্ষ সংঘাত। এটি একটি ভুল ধারণা যে শুধু মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ কারণ ঠান্ডা যুদ্ধকালীন সময়ে তারা কমিউনিস্ট দেশগুলোর সঙ্গেও সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। তবে ইসলামোফোবিয়া এবং নাইন ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে মুসলিম দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যা একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি করেছে।

 

চার :সমাজতন্ত্র কি মানুষকে মুক্তি দিতে পারে

সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হলো সম্পদের সমান বণ্টন এবং শ্রেণীহীন সমাজ গড়ে তোলা যা মানুষকে অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি দিতে পারে। কার্ল মার্ক্সের তত্ত্ব অনুসারে এটি পুঁজিবাদের বিকল্প কিন্তু বাস্তবে কিউবা ভেনিজুয়েলা এবং চীনের উদাহরণ দেখা যায় যে এটি সফলতার সঙ্গে মিশ্রিত। কিউবায় স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত। সমাজতন্ত্র মানুষকে মুক্তি দিতে পারে যদি এটি গণতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা হয় কিন্তু একনায়কতন্ত্রে পরিণত হলে এটি নতুন শোষণের জন্ম দেয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর সামাজিক গণতন্ত্র যেমন সুইডেন এটির একটি সফল মডেল যা পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের মিশ্রণ। তাই এটি সম্ভব কিন্তু প্রসঙ্গভিত্তিক।

পাঁচ: গণতন্ত্রের কথা বলে পশ্চিমারা কেন আগ্রাসী হয় অন্য একটি দেশের উপর

পশ্চিমা দেশগুলো গণতন্ত্র প্রচারের নামে অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করে যা প্রায়ই তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্য। উদাহরণস্বরূপ চিলিতে অ্যালেন্দেকে উৎখাত করে পিনোশেকে সমর্থন করা যা গণতন্ত্রের বিপরীত। এটি একটি দ্বিমুখী নীতি যেখানে তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে কিন্তু অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। উইলসনের চৌদ্দ দফা থেকে শুরু করে বুশের গণতন্ত্র প্রচার এগুলো প্রায়ই ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ছদ্মবেশ। তবে এটি সবসময় আগ্রাসন নয় কারণ জার্মানি এবং জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সফল হয়েছে। সমস্যা হলো যখন এটি একতরফা হয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে।

পর্ব ছয় পশ্চিমারা গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে অন্যান্য দেশের সামনে কিন্তু তারা নিজেরাই সাম্রাজ্যবাদী এই দিমু কি আচরণ বা ব্যাপারটা বাকি বিশ্ব জানা সত্ত্বেও তাদের হয়ে কাজ করে কেন

পশ্চিমাদের দ্বিমুখী আচরণ বিশ্বজুড়ে পরিচিত কিন্তু অনেক দেশ তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য। উদাহরণস্বরূপ সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ কারণ তেল বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা। এটি একটি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে দুর্বল দেশগুলো শক্তিশালীদের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে। তবে এটি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করে যেমন ইরান বিপ্লবে দেখা যায় যেখানে শাহের পশ্চিমপন্থী নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়। বিশ্বের অনেক দেশ এটি জানলেও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং সামরিক ভয়ের কারণে চুপ থাকে। এটি পরিবর্তনের জন্য আঞ্চলিক ঐক্য দরকার যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

পর্ব সাত ইসলামী মৌলবাদ পশ্চিবাদের বুকে কেন কাঁপন ধরায় ইসলামী মৌলবাদে কি রয়েছে

ইসলামী মৌলবাদ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের জন্য চ্যালেঞ্জ কারণ এটি পশ্চিমা মূল্যবোধ যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভোগবাদের বিরোধিতা করে। এতে রয়েছে ধর্মীয় শাসনের ধারণা যা পশ্চিমা উদারবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ তালেবান বা আইসিসের মতো গোষ্ঠী পশ্চিমা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে যা সন্ত্রাসবাদের লেবেল পায় কিন্তু এর মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক অসমতা এবং উপনিবেশবাদের ক্ষত। এটি পশ্চিমাদের কাঁপন ধরায় কারণ এটি তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে হুমকি দেয় যেমন তেলের সরবরাহ। তবে সকল ইসলামী মৌলবাদ সহিংস নয় অনেকে শান্তিপূর্ণ সংস্কার চায়। এটি একটি জটিল বিষয় যা স্যামুয়েল হান্টিংটনের সভ্যতার সংঘাত তত্ত্বে বর্ণিত।

পর্ব আট পশ্চিমারা বেছে বেছে মুসলিম দেশগুলোতেই কেন আক্রমণ করে হামলা চালায় এবং সে দেশের খনিজ সম্পদ গুলো হাতিয়ে নিয়ে যায় বছরের পরে বছর তা সত্ত্বেও কেন মুসলিম অন্যান্য দেশগুলো বোঝার চেষ্টা করে না যারা পশ্চিমাদের সঙ্গে আঁতাত করে থাকে

পশ্চিমা আক্রমণ মুসলিম দেশগুলোতে বেশি কারণ সেখানে খনিজ সম্পদ প্রচুর যেমন ইরাকের তেল লিবিয়ার গ্যাস। এটি একটি প্যাটার্ন যা উপনিবেশকাল থেকে চলে আসছে। তবে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদ যেমন সুন্নি শিয়া সংঘাত এটিকে সহজ করে। অনেক দেশ পশ্চিমাদের সঙ্গে আঁতাত করে কারণ তারা নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সাহায্য চায় যেমন পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। এটি বোঝার চেষ্টা না করার কারণ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রচারণা যা পশ্চিমাদেরকে মিত্র হিসেবে দেখায়। তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে যেমন তুরস্কের স্বাধীন নীতি।

পর্ব নয় লোকো কথায় বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশগুলোর বন্ধু যারা তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই এই লাইনটি কেন এত ভয়াবহ আকার ধারণ করে এর পেছনে লজিক কি যুক্তি কি

এই প্রবাদটি পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্রতার দ্বিমুখী চরিত্রকে তুলে ধরে যেখানে তারা মিত্রদেরকে শোষণ করে। উদাহরণস্বরূপ সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কিন্তু তারা সৌদির অভ্যন্তরীণ অমানবিক নীতিকে উপেক্ষা করে। এটি ভয়াবহ কারণ এতে মিত্র দেশগুলোর স্বাধীনতা হারায় এবং তারা পশ্চিমা স্বার্থের পুতুল হয়ে যায়। লজিক হলো পশ্চিমারা শক্তিশালী তাই দুর্বল দেশগুলো তাদের সঙ্গে থেকে নিরাপত্তা চায় কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। যুক্তি হলো ভারসাম্যের রাজনীতি যেখানে কোনো দেশ এককভাবে নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলে।

শেষ কথা

এই নিবন্ধে দেখা গেছে যে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতিগুলো প্রায়ই স্বার্থভিত্তিক যা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে। তবে সমাধান রয়েছে ঐক্যবদ্ধতা এবং স্বাধীন নীতির মাধ্যমে। বিশ্বের সকল দেশকে সুষম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

ডঃ বখতিয়ার শামীম

 

 

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator