বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড (Greenland) আয়তনে ২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি (প্রায় সৌদি আরবের সমান), তবে এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার। দ্বীপটির ৮৮ শতাংশ আদিবাসী ইনুইট (Inuit) জনগোষ্ঠীর, যারা মূলত আলাস্কা ও সাইবেরিয়া থেকে এসেছে। বাকিরা শ্বেতাঙ্গ ও ডেনিশ বংশোদ্ভূত। বিশাল এই বরফ-দ্বীপে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও এটি এখনও ডেনমার্কের অধীনে একটি অংশ। এই ভিডিও প্রতিবেদনে ইনুইট সংস্কৃতি, ডেনমার্কের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের নাম 'সবুজ ভূমি' (Greenland) হলেও, এর প্রায় ৮০% এলাকা বরফে ঢাকা। তীব্র ঠাণ্ডা এবং বরফের আস্তরণের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের মানুষ জীবন ধারণ করে মাছ শিকার ও স্থানীয় খাবারের ওপর নির্ভর করে। এখানকার বাসিন্দারা মূলত ইনুইট বা এস্কিমো (যদিও তারা এই নামটি অপছন্দ করেন) উপজাতির বংশধর। তাদের জীবন, সংস্কৃতি এবং ডেনমার্কের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক দেশটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ।
-
১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এটি ডেনমার্কের কলোনি হিসেবে ছিল। এরপর এটি নিজস্ব সরকার পায় এবং ২০০৯ সালে স্ব-সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
-
ইনুইট বাসিন্দাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আরও বেশি সচেতনতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে পারে।
-
গ্রিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর অংশ নয়, তবে ডেনমার্ক ইইউ-এর সদস্য হওয়ায় এটি একটি জটিল রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনীতি ও ডেনমার্কের প্রভাব
-
গ্রিনল্যান্ডের আয়ের প্রধান উৎস হলো মাছ ধরা। কিন্তু সমস্ত মাছ ডেনমার্কের মাধ্যমে রপ্তানি হয়, যার ফলে তাদের ফিশিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে উপার্জিত বেশিরভাগ অর্থ ডেনমার্কের হাতে যায়।
-
পর্যটন গ্রিনল্যান্ডের আয়ের দ্বিতীয় উৎস।
-
দৈনন্দিন জীবনের প্রায় ৯০% পণ্য, যেমন মুদি ও অন্যান্য সামগ্রী, ডেনমার্ক থেকে আমদানি করতে হয়।
নুউক শহরের চিত্র ও স্থাপত্য
-
দ্বীপটির রাজধানী নুউক-এ প্রায় ১৭ হাজার মানুষ বাস করে। শহরটিকে আধুনিক মনে হলেও, বাইরে যাওয়ার জন্য কোনো সড়ক পথ নেই। শহর থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো হেলিকপ্টার বা বিমান।
-
শহরটিতে মাত্র তিনটি ট্র্যাফিক লাইট এবং সমগ্র দ্বীপে মাত্র একটি শপিং মল আছে।
-
শহরের বাড়িগুলোতে বিশেষ রং ব্যবহার করা হয়, যার প্রতিটি রঙের নিজস্ব অর্থ আছে—যেমন হলুদ হাসপাতালকে এবং লাল স্কুলকে নির্দেশ করে।
ইনুইট সংস্কৃতি ও খাদ্যভ্যাস
-
গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী ইনুইট উপজাতিরা মূলত আলাস্কা থেকে আসা। 'কায়াক' শব্দটি গ্রিনল্যান্ডীয়, এবং ইনুইটরাই এই নৌকার আবিষ্কারক।
-
ইনুইটরা 'এস্কিমো' নামে পরিচিত হতে পছন্দ করে না। তাদের ভাষায়, 'ইনুইট' শব্দের অর্থ 'মানুষ'।
-
ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে এখানকার স্থানীয় খাদ্যতালিকায় সীল (Seal), রেইনডিয়ার, পোলার বিয়ার এবং তিমির (Whale) মাংস বা চর্বি প্রধান।
-
'মত্তাক' নামে পরিচিত তিমি মাছের ত্বক ও চর্বি এখানকার একটি জনপ্রিয় খাবার, যা তারা লবণ বা সয়া সস দিয়ে খায়। তারা শুকনো মাছের সঙ্গে সীল-এর চর্বি (যা অনেকটা পিনাট বাটারের মতো) মিশিয়েও খেয়ে থাকে।



















