প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
১. টেলিনর সিইও’র প্রশংসা ও প্রতিশ্রুতি
সাক্ষাৎকালে টেলিনর সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বান্ধব নীতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টেলিনর গ্রুপ গ্রামীণফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের সেবার মান আরও উন্নত করতে চায়। বিশেষ করে দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ফোর-জি সেবা নিশ্চিত করা এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির সম্প্রসারণে টেলিনর বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
২. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেলিনর গ্রুপকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার একটি আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।” প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণফোনের মাধ্যমে দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।
৩. আলোচনার মূল বিষয়সমূহ
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় টেলিকম খাতের বিদ্যমান কর কাঠামো, স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের টেকসই উন্নয়নে টেলিনর গ্রুপ সবসময় পাশে থাকবে।
৪. উপস্থিতিবর্গ
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং গ্রামীণফোনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে টেলিনর সিইও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম অপারেটর টেলিনরের শীর্ষ কর্মকর্তার এই সফর বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। হরমোজ প্রণালীর যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যখন অস্থিরতা চলছে, তখন বাংলাদেশে এমন বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা।



















