পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটাতে মঙ্গলবার বিকেলে এক ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে ফ্রন্টিয়ার কর্পস সদরদপ্তরের কাছাকাছি বিস্ফোরকবাহী একটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন। বিস্ফোরণ এত মারাত্মক ছিল যে আশপাশের ভবন, দোকানপাট ও যানবাহনও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, মডেল টাউন এলাকায় হালি রোডে গাড়ি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে চার সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।
বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকার জানিয়েছেন, আহতদের কোয়েটার সিভিল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার পর প্রদেশজুড়ে হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটিতে থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। পাকিস্তানি জাতির মনোবল দুর্বল করার যে কোনও চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আমরা বেলুচিস্তানকে শান্তি ও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রাখছি।”
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভারত সমর্থিত উগ্রপন্থিরা এই হামলার পেছনে রয়েছে। তারা পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করতে চায়, কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না।”
হামলার পর কোয়েটা শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর বেলুচিস্তান স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।