কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় অনুমোদনবিহীনভাবে বাড়িতে গিয়ে প্রসব করানোকে কেন্দ্র করে এক মিডওয়াইফ সহকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার অবহেলা ও জোরপূর্বক প্রসব প্রক্রিয়ার কারণে এক মা ও নবজাতক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাদের কুতুবদিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে চট্টগ্রামে রেফার করা হয় এবং নবজাতককে কয়েকদিন আইসিইউতে রাখতে হয়।
জানা যায়, অভিযুক্ত উম্মুল কুলছুম বিউটি একজন মিডওয়াইফ সহকারী। তার মূল কর্মস্থল মহেশখালী উপজেলা হলেও বর্তমানে তিনি কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রেষণে কর্মরত এবং সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেলিভারি করিয়ে আসছেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। সর্বশেষ ঘটনায় তিনি এক প্রসূতির বাড়িতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রসব করানোর চেষ্টা করেন।
রোগীর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসববেদনা শুরু হলে তারা প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারী পরিচয়ে থাকা বিউটি তাদের রোগীকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে প্রসব করাবেন বলে জানান। পরে বিকেলে তিনি রোগীর বাড়িতে যান, স্বাভাবিক প্রসববেদনা না থাকা সত্ত্বেও ওষুধ প্রয়োগ করেন এবং জোরপূর্বক প্রসব করানোর চেষ্টা চালান।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে চাপ প্রয়োগের পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখা দিলে পরিবার হাসপাতালের দিকে নিতে চাইলে তাতেও বাধা দেন বিউটি। পরে তার দাবি অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করে রোগীকে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সাকিব বলেন, “একপ্রকার জোর করে ডেলিভারি করানো হয়েছে। এখন শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায়। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন ঝুঁকির শিকার না হয়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিউটি নিজেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত গাইনি চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারিতে জড়িত। তার কারণে এর আগেও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে না আসার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে বিউটির স্বামী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিউটির দায়িত্ব ডেলিভারি করানো নয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি গোপনে এসব কাজ করে যাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উম্মুল কুলছুম বিউটি দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেলিভারির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং তার সার্টিফিকেট রয়েছে। তবে এ কাজে তার কোনো অনুমোদন আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
কুতুবদিয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া বলেন, “ উম্মে কুলছুম বিউটি মিডওয়াইফ সহকারী হিসেবে কর্মরত। ডেলিভারি করানোর কোনো অনুমোদন তাকে দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।



















