close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

OAB ফাউন্ডেশনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

ফরহাদ হোসেন avatar   
ফরহাদ হোসেন
OAB ফাউন্ডেশনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

AB ফাউন্ডেশনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

যুব নেতৃত্বে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও টেকসই বাংলাদেশের প্রত্যয়

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬:
যুব নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন ওভার অল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (OAB Foundation) এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে এক দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, যুব নেতৃত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তরুণ নেতা, স্বেচ্ছাসেবক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে OAB Foundation-এর ফাউন্ডার ও প্রেসিডেন্ট আসাদুজ্জামান তুহিন সংগঠনের আট বছরের পথচলা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“২০১৮ সাল থেকে ওএবি ফাউন্ডেশন তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই আট বছরে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তরুণদের কণ্ঠ তুলে ধরেছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ওএবি ফাউন্ডেশনের অধীনে সারাদেশে প্রায় ২ হাজারের বেশি সক্রিয় সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক পরিবেশ, জলবায়ু ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে ওএবি ফাউন্ডেশন সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে, যা জলবায়ু সাক্ষরতা বৃদ্ধি, যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “আমাদের লক্ষ্য শুধু কর্মসূচি বাস্তবায়ন নয়, বরং একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলা,”—বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CPRD)-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। তিনি বলেন, “জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নিয়ে আসা জরুরি। ওএবি ফাউন্ডেশন তরুণদের সংগঠিত করে পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে যে ভূমিকা রাখছে, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”

ভিএসও বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর খাবিরুল হক কামাল বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক নেতৃত্ব তৈরিতে ওএবি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ইউএনডিপির হেড অব কমিউনিকেশন আব্দুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে তরুণদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,
“ওএবি ফাউন্ডেশনের মতো তরুণ নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, যুবসমাজ চাইলে জলবায়ু ও উন্নয়ন ইস্যুতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।”
তিনি ওএবি ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধরা আন্দোলন-এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল। তিনি নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (BRAC C3ER)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন,
“জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা জরুরি। ওএবি ফাউন্ডেশন তরুণদের সম্পৃক্ত করে সেই সেতুবন্ধনের কাজ করছে।”

এছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জহিরুল হক তাঁর বক্তব্যে ওএবি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, তরুণদের নেতৃত্বে পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে পরিচালিত এমন উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যতে ওএবি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক পরিবেশ সংরক্ষণে যুবসমাজের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্র ও নাগরিক উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজনে ওএবি ফাউন্ডেশনের আট বছরের অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিফলনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে OAB Excellence Award প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে OAB Excellence Award-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে প্রদান করা হবে। চলতি বছরে ওএবি ফাউন্ডেশনের ৭ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ৭টি সংগঠনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। আগামী বছর থেকে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের কোনো আবেদন ছাড়াই খুঁজে বের করে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জলবায়ু সাক্ষরতা ও যুব নেতৃত্ব বিষয়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তরুণরা সম্মিলিতভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় করণীয় ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন। দিনশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ওএবি ফাউন্ডেশনের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু ন্যায়বিচার, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।

Nema komentara


News Card Generator