নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে পূর্বধলা বাজারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী। শনিবার বিকেলে উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি পূর্বধলা বাজারে এসে শেষ হয় এবং সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিরসনে এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বিএনপি এই কর্মসূচির ডাক দেয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কঠোর নিন্দা জানান।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার লক্ষ্যে এই মামলাটি সাজানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়েদ আল মামুন শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন মামলার অবতারণা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই জামায়াতে ইসলামী এই আইনি পথ বেছে নিয়েছে। তাদের মতে, মামলার প্রতিটি ধারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সমাবেশে উপস্থিত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে অভিহিত করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদারসহ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, হাবিবুর রহমান ফকির, রুহুল আমিন ফকির, সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। মামলার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বিএনপির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, অবিলম্বে হয়রানি বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো ভিত্তিহীন মামলার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি করা হলে তা ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করবে। সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলার আইনি কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি জানান।
এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা এবং এভাবে মামলা-মোকদ্দমার আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পূর্বধলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটা উত্তপ্ত, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পড়ছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হয়, তবে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি এবং বিএনপি-জামায়াতের মধ্যকার এই বিরোধের সমীকরণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পূর্বধলার সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।